তপশ্রী গুপ্ত: কথা ছিল দেখা হবে লাস ভেগাসে। জুলাইয়ের গোড়ার কটা দিন ক্যাসিনোর হুল্লোড় ছাপিয়ে শোনা যাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত, স্বল্পবসনা ব্লন্ডদের টেক্কা দেবে বালুচরী। বাদ সাধল করোনা। নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স, যা কিনা বঙ্গ সম্মেলন বলেই প্রিয় প্রবাসী বাঙালির কাছে, বাতিল হল ২০২০তে। ভাবা গেছিল, একুশের জুলাই হয়তো ফিরিয়ে দেবে হারানো দিন। কিন্তু না, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হল না। অগত্যা ভারচুয়াল প্ল্যাটফর্ম ভরসা। ২ থেকে ৪ জুলাই নেট দুনিয়ায় দেখাসাক্ষাত্, গানবাজনা, আলাপ আলোচনা। কিন্তু তাতে কি আর মিটবে কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক থেকে নটিংহাম, বাঙালির আড্ডা-বাসনা ? এক এক বছর আমেরিকার এক এক শহরে আনন্দমেলায় সামিল হওয়ার যে মজা, সেটাও এবার বাদ। দেশের খাঁটি জলভরা সন্দেশ বা নারকেল নাড়ুর স্টলগুলোর জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছু কি করার রইল ? তবু নেই মামার থেকে কানা মামা ভাল, এই আপ্তবাক্য মাথায় নিয়ে অতলান্তিকের ওপারের প্রবাসী বাঙালিরা আয়োজন করে ফেলেছেন এ’বছরের বঙ্গ সম্মেলন। শুধু বিনোদন নয়, বাংলার কোভিড ও ইয়াশ-এর ক্ষত মোছার কাজেও হাত বাড়িয়েছে এন এ বি সি ও কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।
যদিও আমেরিকার পূর্ব উপকূলের ঘড়ি অনুযায়ী চলবে অনুষ্ঠান, পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তের মানুষ নিজেদের সুবিধে অনুযায়ী দেখতে পারবেন আর্কাইভে গিয়ে। তবে ঋতুপর্ণার নাচ দেখতে চান কি বিজনেস টাইকুনদের বক্তব্য শুনতে চান, রেজিস্টার করতে হবে এন এ বি সি’র ওয়েবসাইটে গিয়ে। অন্যান্য বছর যা যা কিছু থাকে, এবার বাদ যাচ্ছে না তার কোনটাই। শুধু তফাত হল, লাইভের ঝুঁকি না নিয়ে সবটাই রেকর্ড করেছেন উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে কোভিডের প্রতিকূলতা সামলে মার্কিন মুলুক আর ভারতের মধ্যে সমন্বয় রেখে এত অনুষ্ঠান রেকর্ড করা মুখের কথা নয়। এবারের কর্মকর্তাদের কাছে তাই বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল এটা। আহ্বায়ক মিলন আওন আর তাঁর টিম কাজ শুরু করেছিলেন ২০১৯ সালে একরকম ভেবে। তারপর সব ওলটপালোট হয়ে গেল। এমেরিটাস কো-অর্ডিনেটর প্রবীর রায় থেকে শুরু করে কো-কনভেনর অশোক রক্ষিত, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর কৃশ ঘোষ থেকে মার্কেটিংয়ের দায়িত্বে থাকা পার্থসারথি চ্যাটার্জি- রাতের ঘুম উড়ে গেছে সবার। হবে নাই বা কেন ? ২৫টিরও বেশি দেশ যোগ দিচ্ছে বঙ্গ সম্মেলনে, পারফর্ম করছেন ৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় শিল্পী। গত একবছরে যে’কজন গুণী মানুষকে হারিয়েছি আমরা, তাঁদের স্মরণে থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান। সৌমিত্র চ্যাটার্জির স্মৃতিচারণ করেছেন মেয়ে পৌলমী। শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেনকে জানানো হয়েছে শ্রদ্ধার্ঘ্য। শুধু বাইরের শিল্পী-সাহিত্যিকরা নন, আমেরিকা প্রবাসী বাঙালিরা অন্যবারের মতোই সোত্সাহে মেতে উঠেছেন নাটকে,গানে, বাজনায়। নবীন প্রজন্মও খুব উত্সাহী বাংলা সংস্কৃতির উদযাপনে। এর সঙ্গে থাকছে হস্তশিল্প, লোকশিল্প প্রদর্শনী। পটচিত্র থেকে ডোকরা, আলপনা থেকে টেরাকোটা সব দেখা যাবে, কেনাও যাবে অনলাইনে। আর থাকছে ভারচুয়াল স্টল। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যা থ্রি ডি, বাস্তবঘেঁষা। অন্য সব বছরের মতোই এবারেরও অন্যতম আকর্ষণ আজকাল অনলাইন এন এ বি সি সেরা বাঙালি পুরস্কার। এবারের তিন প্রাপকের দুজন কলকাতার, একজন আমেরিকার। নামগুলো এখনই বলা যাচ্ছে না। দেখুন ভারচুয়াল মঞ্চে।