অসমে বাঙালি হয়রানি চলছে বিভিন্নভাবে! সামাজিক-ভাষাগত বিভিন্ন দিক দিয়ে।
করোনা সংক্রমণের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া অসম বিধান সভার অধিবেশনে আজ গৃহীত হল অসম সরকারি ভাষা সংশোধনী বিল, ২০২০।
ধ্বনি ভোটে গৃহীত করা হয় বিতর্কিত বিলটি। বড়ো ভাষাকে অসমের সহযোগী সরকারি ভাষা স্বীকৃতি দেয়ার জন্যে গৃহীত হয়েছে এই বিল।
বড়ো চুক্তিতে শর্ত ছিল, বড়ো ভাষাকে সহযোগী সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে।
আজ গৃহীত হওয়া বিতর্কিত এই বিলের মাধ্যমে বড়ো ভাষা অসমের সহযোগী সরকারি ভাষা হিসেবে নিশ্চিতি লাভ করেছে।
বড়ো ভাষা যদি সহযোগী ভাষা হতে পারে, তাহলে বাংলা ভাষা কেন হবে না? সমগ্র অসমে বড়োর সঙ্গে বাংলা ভাষাকে সহযোগী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি তুলেছেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।
জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি যে, বাংলা ভাষা সহযোগী ভাষা হওয়া উচিত্। তিনি দাবি জানিয়েছেন, ৯০ লক্ষ বাঙালি লোককে বিজেপি সরকার কেন অবহেলা করছে?
বাংলা ভাষাকে কেন সরকার দিতে পারল না সহযোগী ভাষার মর্যাদা?
অসমে বাংলা ভাষার প্রতি এই অবিচার মেনে নেয়া হবে না। বিধায়ক কমলাক্ষ দে বিলটিতে সংশোধনী চেয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
দে দাবি করেন, বিলটি সংশোধন করা হোক এবং বড়োর পাশাপাশি, অসমজুড়ে বাংলা ভাষাকেও সহযোগী সরকারী ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।বাঙালির প্রতি কেন এই অবিচার?
বরাকের কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ প্রশ্ন তোলেন ৯০ লক্ষ বাংলাভাষী থাকা সত্ত্বেও বড়ো ভাষাকে সহযোগী সরকারি ভাষা হিসাবে গণ্য করা হলো কেন? সরকারের কি বাংলা ভাষার প্রতি মমতা নেই? বাংলাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হয় না?
তিনি বলেন, বড়ো ভাষাটি শুধুমাত্র ১৪ লক্ষ মানুষ এবং বাংলা ভাষায় অসমজুড়ে ৯০ লক্ষ মানুষ কথা বলেন। সে জায়গায় কীভাবে এটি হলো? এই কারণেই বাংলা ভাষাকে অসমের সহযোগী সরকারী ভাষা হিসাবে ঘোষণা করা উচিত্, দে বলেন।
তবে এ বিষয়ের অসমের শক্তিশালী বিজেপি মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্নরকম। তিনি বলেন, বাংলা একটি প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত ভারতীয় ভাষা। যে ভাষায় ভারতের বিপুল সংখ্যক মানুষ কথা বলেন।
অসমে বরাক উপত্যকার তিন জেলার সরকারি ভাষা বাংলা। ফলে গোটা অসমে বাংলা ভাষাকে সহযোগী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটা প্রয়োজনহীন বলে মন্তব্য করেন হিমন্ত ও পাটোয়ারি।
শেষে বিরোধী বিধায়ক কমলাক্ষের প্রস্তাব উঠিয়ে নেন বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়া। তবে জোরালো দাবি নিয়ে নিজের জায়গায় অটল থেকেছেন পুরকায়স্থ।
বিভিন্ন মহল এই ঘটনায় বিজেপি সরকারকে তুলোধুনা করছে।
মূলত সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বে বিজেপি পরিচালিত সরকার গঠনে এ রাজ্যের বাংলাভাষী বাঙালিদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। রাজ্যের উন্নয়নে এই জনগোষ্ঠী সমান অংশীদার। কিন্তু কী দেখা যাচ্ছে ?
চাষ করছে একদল অথচ ভোগ করছে আরেক দল!
দেখা যাচ্ছে, নিযুক্তি, আর্থিক সহায়তা, নাগরিকত্ব ইস্যুতে এই জনগোষ্ঠী উপেক্ষা এবং ভয়ানক রকমের হয়রানির শিকার হচ্ছে। বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক সরকারি ভাষা বাংলা। কিন্তু এই ভাষা বিধিও বিভিন্নভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বরাক উপত্যকার প্রতি তো বিজেপির কোন দৃষ্টি নেই! এই নিয়ে বারবার সরব হচ্ছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।