বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে সেটা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে এক নির্দেশনায় বলেছে হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এমন ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো রোগী অবহেলায় মারা গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিটকারী আইনজীবীদের একজন এএম জামিউল হক ফয়সাল এসব নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া আইসিইউ মনিটরিংয়ের জন্য হটলাইন চালু এবং শয্যা ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
অক্সিজেন সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি একটি কমিটি গঠন করে এর মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিতে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্যরা থাকবেন।
এছাড়া ৫০ শয্যার বেশি যে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো রয়েছে, তারা কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেটার একটি মনিটরিং রিপোর্ট ১৫ দিন পর পর আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়া সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ১৩ জনু জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান, এএম জামিউল হক ফয়সাল, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
ই-মেইলে পাঠানো এই আবেদনে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরত দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলের আর্জির পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা জানানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

