বাংলাদেশ ডেস্ক- বর্তমান বিশ্বে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। তবে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এর চেয়েও ভয়ংকর হিসেবে উঠে আসছে লেজার ওয়েপন, যা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন। সেই লেজার অস্ত্রের পরীক্ষায় এবার সাফল্য পেয়েছে ইন্ডিয়া।
অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনূলে ইন্ডিয়ার প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) সম্প্রতি একটি আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পরীক্ষা চালায়। এর মধ্যে ছিল দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, নিকটবর্তী প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা, এবং সবচেয়ে আলোচিত হাই-পাওয়ার লেজার অস্ত্র। পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সমরবিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের দখলে রয়েছে। ইন্ডিয়ার হাতে এ প্রযুক্তি আসা মানে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। চীনের সামরিক বিশ্লেষক ওয়াং ইয়ান বলেছেন, “বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা গড়তে হলে কেবল অস্ত্র নয়, তথ্য আদানপ্রদানের দক্ষ ব্যবস্থাও প্রয়োজন। ইন্ডিয়া সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে।”
এই সাফল্য ইন্ডিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও চীনের জন্য যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে—
১. সীমান্ত নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রচলিত অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে না; যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর।
২. দক্ষিণ এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। ইন্ডিয়া নিজস্ব গবেষণা জোরদার করছে, আর পাকিস্তান চীনের সহায়তায় শক্তি বাড়াচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্ডিয়ার এ সাফল্য শুধু সীমান্ত প্রতিরক্ষাতেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর এই দৌড়ে ইন্ডিয়া একধাপ এগিয়ে গেল, যা চীনকেও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।