শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

অতিষ্ঠ ভবনের বাসিন্দারা, সারারাত তরুণীদের নিয়ে আসা-যাওয়া করতেন সোহেল

হাইকোর্টের চাকরিচ্যুত বেঞ্চ অফিসার মোরশেদে হাসান সোহেল প্রায় সারারাত তরুণীদের নিয়ে বাইরে চলাফেরা করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট মালিকরা। তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর ৫৩টি ফ্ল্যাটের মালিক পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে সোহেল কারগার থেকে বেরিয়ে এলেও ওই ভবনে ঢুকতে না পারেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতির স্বাক্ষরে একটি জিডি করা হয়েছিল মিরপুর মডেল থানায়। সেই জিডিতে তারা উল্লেখ করেছিলেন, সোহেলের গত ছয় মাস ধরে তার ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছেন। ফ্ল্যাট মালিকরা এসব না করতে তাকে নিষেধ করলে তিনি কথা না শোনে উল্টো গালাগালিসহ হুমকি প্রদান করেন।

গত ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তারের পর গত ১৪ আগস্ট পুলিশের কাছে আরো একটি অভিযোগ করেছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। তারা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে লিখেছেন ৩১৫ মধ্য পীরেরবাগের তাসনিম বিজয় ভবনের ৫৪টি ফ্ল্যাট মালিকের মধ্যে থেকে ৪-এফ নম্বর ফ্ল্যাটের মালিক মোরশেদুল হাসান ওরফে সোহেল হাইকোর্টের একজন চাকরিজীবী। বর্তমানে তার চাকরি আছে কি না আমাদের জানা নেই। দীর্ঘদিন তিনি ইয়াবা ও তরুণীদের নিয়ে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে গত ৬ আগস্ট পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিদিন তার ফ্ল্যাটে অপরিচিত নারী-পুরুষ আসা যাওয়া করত। সোহেল তরুণীদের নিয়ে সন্ধ্যায় বাইরে যেতেন এবং রাত ১০টার দিকে ফিরে আসতেন। আবার রাত ১২টার দিকে বাইরে যেতেন। শেষ রাতের দিকে ফিরে আসতেও দেখেছেন অনেকে। সোহলের এমন কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে নিরাপত্তা কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাতেন।

অভিযোগে বলা হয়, সোহেল এখানে বসবাস করলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাবে। এখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার পরিবেশ থাকবে না। ৫৩ জন ফ্ল্যাট মালিকের পরিবারের দিক বিবেচনা করে সোহেলকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিনীতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা ফ্ল্যাট মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপনাদের সহযোগিতায় ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে উক্ত ভবনে প্রবেশ করতে দেব না এবং মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলবো।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ি থানার সাব ইন্সপেক্টর আতোয়ার রহমান অভিযান চালিয়ে রানা মন্ডল নামের এক মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানায়, এই ইয়াবা সে মিরপুর এলাকার ‘মাদক সম্রাট’ সোহেলের কাছ থেকে কিনে এনেছে। পরে তার দেয়ার তথ্যর ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ি থানা ও মিরপুর থানা পুলিশ ওই দিনই অভিযান চালায় মিরপুরের মধ্য পীরের বাগের ৩১৫ নম্বর (তাসমিম বিজয় অ্যাপার্টমেন্ট)র চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে। সেখানে গিয়ে ফাতেমা ইসলাম চাদনী নামের আরেক খুচরা মাদক বিক্রেতাকে পায় পুলিশ। তার কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আর সোহেলের কাছে পাওয়া যায় ৬০০ পিস ইয়াবা। পরে দুজনকে গ্রেপ্তার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনা কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশ পেলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অবশেষে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসারের পদ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জানা গেছে, মিরপুর থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করবে আদালতে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *