শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ১৭, ২০২৬

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আওয়ামী লীগে ফের আলোচনা-সমালোচনা

শেখ তৌফিকুর রহমান: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদাইয়ের লক্ষ্যে হেটেছে দলটি। ফলে ত্যাগী নেতা তৈরির কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে ক্ষমতাসীন এ দলটি।

তবে টানা তিন মেয়াদের ক্ষমতায় আসার ফলে বেশ কিছু অনুপ্রবেশ ঘটে দলটিতে। সর্বশেষ মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল আর করোনার ‘মনগড়া রিপোর্ট’ দিয়ে আলোচনায় আসা বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের কারণে আবারো অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আলোচনা-সামলোচনার ঝড় উঠেছে দলের ভেতরে ও বাইরে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটে। সরকার শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। অনুপ্রবেশকারীরা দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায় করে নেয়। তবে এদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা জানান, পাপুল, সাহেদদের মতো সুবিধাভোগীরা আওয়ামী লীগে বিস্তর আছে। দলে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে এসব সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এর আগে গত বছর মাদক, জুয়া, টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনোর সাথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার কথা উঠে আসে। তাদের মধ্যে এখনো বেশ কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতার তথ্যও প্রকাশ পায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিতর্কিত এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে ইমেজ সঙ্কটে পড়ে ক্ষমতাসীন দলটি। সে সময় দলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার বিষয়টি জোর আলোচনায় আসে।

ওই সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ খোলেন। তিনি গত বছর অক্টোবরে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় বলেন, নেত্রী আমাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে স্থান দেয়া যাবে না। যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি দলে অনুপ্রবেশ করে থাকে, তাহলে আপনারা তাকে দল থেকে বের করে দিন। আওয়ামী লীগের লোকের অভাব নেই। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির দলে দরকার নেই।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা দলে প্রবেশ করে। দলের কোনো পদধারী নেতার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নই তাদের প্রথম টার্গেট। এরপর ধীরে ধীরে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং লোকবল নিয়ে শোডাউন শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ডোনেশনের মাধ্যমে টার্গেট করা পদধারী নেতাদের সন্তুষ্টির চেষ্টা করে। এভাবে ত্যাগীদের টপকে দলে ভিড়ে যায় অনুপ্রবেশকারীরা।

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, সাহেদ, পাপুল কিংবা পাপিয়ার মত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা অনেক। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে এসব ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক ফয়দা হাসিল করে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা অনেক ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারীদের দ্ধারা অবমূল্যায়ন হয়।

অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারো বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা সবাই দলকে আগাছা মুক্ত করার পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা অনুপ্রবেশ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, আমরা চালুন দিয়ে ছেকে অনুপ্রবেশ মুক্ত করবো।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দলের কাউকে না কাউকে ধরে দলে প্রবেশ করে। দল যখন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসবে, তখন নিশ্চয় এগুলো সামনে চলে আসবে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসতে অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার বিষয়ে মত দিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগের প্রতি ডেডিকেশনের উপর ভিত্তি করে মূল দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে পদায়ন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের দলে ভেড়াতে দলের মধ্যেরও কেউ যদি সাহায্য করে থাকে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। নীতি-আদর্শহীনদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশ জার্নাল/এসটি/আরকে

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
messenger sharing button
sharethis sharing button

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *