শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

অনুসন্ধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ সাগরের তেল-গ্যাস অধরাই থাকছে

অনেক সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। পাশের দেশ মিয়ানমার ও ভারত তাদের প্রান্তে সাগরে তেল-গ্যাস আবিস্কারে অনেক এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করতে হবে। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে দেশ গ্যাস সংকটে পড়তে পারে। কারণ, আমদানি করে গ্যাসের পুরো চাহিদা মেটানো অসম্ভব।

গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে উচ্চমূল্যে গ্যাস আমদানি করছে সরকার। স্থলভাগেও কমছে নিজস্ব গ্যাসের মজুদ। তারপরও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এরই মধ্যে একাধিক বিদেশি কোম্পানি সাগরে অনুসন্ধান শেষ না করেই চলে গেছে। পূর্ণাঙ্গ জরিপের জন্য প্রয়োজনীয় মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভের কাজ ঝুলে আছে ছয় বছর ধরে। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকার কার্যক্রমও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। অথচ বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস তুলছে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। ভারতও প্রচুর পরিমাণ গ্যাস আবিস্কার করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম এ বিষয়ে বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না থাকলে বড় বড় কোম্পানি সমুদ্রে অনুসন্ধানে আগ্রহী হয় না। এ জন্য মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। যার মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে ভূ-তাত্ত্বিক গঠন ও খনিজ সম্পদের অবস্থানের একটি প্রাথমিক ধারণা মেলে। এই জরিপের তথ্যই কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে অনুসন্ধানে অংশ নিতে। সার্ভের তথ্য থাকার কারণেই ভারত ও মিয়ানমার তাদের প্রান্তে অনুসন্ধানের জন্য বড় বড় কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। সময়মতো মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করতে না পারায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে গেছে।

সাগরে ব্লক: বঙ্গোপসাগরের অগভীর ও গভীর অংশকে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অগভীর অংশে ব্লক ১১টি। আর গভীর সমুদ্রে ব্লক ১৫টি। অগভীর ব্লকে পানির গভীরতা ২০০ মিটার পর্যন্ত। এর পরে গভীর সমুদ্র ব্লক। অগভীর সমুদ্রের ৯ নম্বর ব্লকে ১৯৯৬ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করে কেয়ার্নস এনার্জি, যা এখন পর্যন্ত দেশের একমাত্র সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে গ্যাসক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া কুতুবদিয়ার সাগরতীরে গ্যাসের সন্ধান মিললেও তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য বিবেচিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল-গ্যাস কোম্পানি কনোকোফিলিপস ২০০৮ সালের দরপত্র প্রক্রিয়ায় গভীর সমুদ্রের ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ নম্বর ব্লক ইজারা নিয়েছিল। দুই বছর অনুসন্ধান কাজ করার পর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৪ সালে ব্লক দুটি ছেড়ে দেয় কনোকো। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ডাকা অন্য আরেক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১- এই তিন ব্লকের জন্য যৌথভাবে দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছিল কনোকো ও স্টেট অয়েল। পরবর্তী সময়ে কনোকো নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় ব্লকগুলো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে অগভীর সমুদ্র্রের ব্লকগুলোর জন্য ভিন্ন একটি দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এই দর প্রক্রিয়া এসএস ১১ নম্বর ব্লক সান্তোস ও ক্রিস এনার্জি এবং এসএস ৪ ও এসএস ৯ নম্বর ব্লক ভারতীয় দুটি কোম্পানি ওএনজিসি ভিদেশ (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া (ওআইএল) ইজারা নিয়েছিল।

বহু আগে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের কারণে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের বাধার মুখে ছিল বাংলাদেশ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের রায়ে প্রায় ৯ বছর আগে (২০১২) মিয়ানমারের সঙ্গে এবং সাত বছর আগে (২০১৪) ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা নিষ্পত্তি হয়। প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার ২৮৯ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়, যাকে ‘সমুদ্র বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। গভীর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন নিয়েও তৈরি হয় নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু সেই সম্ভাবনা কোনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এরপর জ্বালানি বিভাগ বিশেষ আইনে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়। দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) কাছ থেকে আগ্রহপত্র চায় পেট্রোবাংলা। সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো দাইয়ু ও নরওয়ের স্টেট অয়েল আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে প্রস্তাব চাওয়া হলে শুধু গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকের জন্য দাইয়ু প্রস্তাব দাখিল করে। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দাইয়ু করপোরেশনের সঙ্গে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই করে পেট্রোবাংলা। দাইয়ু এই ব্লকের পাশেই মিয়ানমারের একটি সমুদ্র ব্লক থেকে গ্যাস তুলছে। মিয়ানমার সেই গ্যাস রপ্তানিও করছে।

চলে গেছে দুই কোম্পানি: ২০১৪ সালে সাগরের অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করে চলে যায় মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপস। সর্বশেষ সাগরের চার ব্লকে তিন বিদেশি কোম্পানি কাজ করত। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি সান্তোস আর দাইয়ু চলে গেছে। গত মার্চে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে পেট্রোবাংলা। সান্তোস এসএস-১১ ব্লকে তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ করেছে। এ ছাড়া ৩০২ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক জরিপ করে তথ্য পেট্রোবাংলার কাছে দিয়েছে। একটি কূপ খনন করার কথা চলছিল। পরে তারা বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। দাইয়ু গভীর সমুদ্রে ডিএস-১২ ব্লকে তিন হাজার ৫৮০ কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ করে তথ্য পেট্রোবাংলার কাছে জমা দিয়েছে। এই ব্লক খুবই সম্ভাবনাময়। পাশেই মিয়ানমার তাদের ব্লক থেকে গ্যাস তুলছে। মিয়ানমারে ওই ব্লকের অপারেটরও দাইয়ু। কাজের মধ্যেই পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আবেদন করে দাইয়ু। চুক্তি অনুযায়ী দাম বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় পেট্রোবাংলা তা নাকচ করে। এরপরই দাইয়ু তাদের ব্লক ছেড়ে দেয়।

রয়েছে ওএনজিসি: এখন সাগরে কাজ করছে শুধু ভারতের প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি। তারা এসএস-৪ ও এসএস-৯ ব্লকে কাজ করছে। পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে অগভীর সমুদ্রের ৪ নম্বর ব্লকে একটি অনুসন্ধান কূপ খননকাজ শুরু করবে ওএনজিসি। যদিও এটি আরও আগে করার কথা। কিন্তু কভিড পরিস্থিতির কারণে কাজ বারবার পিছিয়ে গেছে। কোম্পানিটি আগামী জুনে ব্লক ৪-এ আরেকটি অনুসন্ধান কূপ খনন করবে। আগামী বছর ডিসেম্বরে এসএস-৯ নম্বর ব্লকেও একটি কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এসব অনুসন্ধান কূপ খননের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে গ্যাস-তেল মিলবে কিনা। একটি কূপ খননে প্রায় তিন মাস সময় লাগে।

উন্মুক্ত চার ব্লক, দরপত্র হচ্ছে না: সাগরের ২৪টি ব্লক এখন উন্মুক্ত। সেখানে কোনো অনুসন্ধান কাজ হচ্ছে না। এসব ব্লকের ইজারার জন্য মডেল পিএসসি (উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি) সংশোধন করে পেট্রোবাংলা। বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম। মডেল পিএসসি-১৯ মন্ত্রিসভাও অনুমোদন করেছে। গত বছরের জুন-জুলাইতে দরপত্র আহ্বানের ঘোষণাও দেয় পেট্রোবাংলা। কিন্তু কভিড পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সে উদ্যোগ বাতিল হয়। কবে দরপত্র আহ্বানের কাজ শুরু হবে, তা বলতে পারছে না জ্বালানি বিভাগ। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী হচ্ছে না বড় আইওসিগুলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করে লাভ নেই। সাড়া মিলবে না।

মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে: বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভালো সাড়া না মেলায় সরকার পুরো সমুদ্রসীমায় একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমাত্রিক জরিপ বা মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সার্ভের কাজ করার জন্য ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। দরপত্র জমা পড়ে পাঁচটি। দরপত্র মূল্যায়নে নরওয়ের কোম্পানি টিজিএস ও ফ্রান্সের স্কামবার্জার কনসোর্টিয়াম যোগ্য বলে নির্বাচিত হয়। এরপর পেট্রোবাংলা প্রস্তাব চূড়ান্ত করে চুক্তিপত্র অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে জ্বালানি বিভাগে ফাইল পাঠায়। কিন্তু সে প্রক্রিয়া হঠাৎ বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বানের জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় জ্বালানি বিভাগ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কোম্পানি কাজ না পাওয়ায় একটি মহলের চাপে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। পরে আবারও পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে এবারও পাঁচটি প্রস্তাব জমা পড়ে। এবারও দর প্রক্রিয়ায় টিজিএস-স্কামবার্জার কনসোর্টিয়াম প্রথম হয়। এরপর চুক্তির প্রস্তাবনা জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করা হয়। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, সেবারও দরপত্র প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি বলে আপত্তি তোলা হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়নের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ৯ মাস পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এরপরও দীর্ঘদিন এই প্রস্তাব আটকে আছে। অবশেষে ২০১৯ সালের এপ্রিলে এটি মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পায়। ২০২০ সালের মার্চে টিজিএস ও স্কামবার্জার কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন শুস্ক মৌসুমেই ‘মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে’ কাজ শুরু করবে টিজিএস কনসোর্টিয়াম। অগভীর ও গভীর সমুদ্রের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায়, এক্সক্লুসিভ সিসমিক সার্ভে করবে তারা। ফলে সমুদ্রের কোন কোন অংশে হাইড্রোকার্বন রয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যাবে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, সার্ভে পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় কোম্পানিটি বহন করবে। সার্ভে শুরু হলে দুই বছরের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে। তারা জরিপের ফলাফল বিক্রি করতে পারবে।

জরিপ জাহাজ (সার্ভে ভেসেল) ক্রয়: মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে নিয়ে এ জটিলতার মধ্যে নিজেরাই জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা করে জ্বালানি বিভাগ। এ জন্য এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর আওতায় ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক জাহাজ কেনার সিদ্ধান্তত হয়। এরপর সার্ভে জাহাজ ভাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি।

ব্লু ইকোনমি সেল: সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বিশাল সমুদ্রসম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান, গবেষণা ও উত্তোলনে তদারকির জন্য ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়। এ সেলের জনবল নিয়োগ এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় কর্মকর্তাসহ বর্তমানে মোট জনবল ১০ জন। কয়েকটি বৈঠক ছাড়া এ শাখার তেমন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি।

সমুদ্রে অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে তা করা যাচ্ছে না। কারণ, এখন দরপত্র ডাকলেও কেউ অংশ নেবে না। আর বিশ্ববাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় সমুদ্রে অনুসন্ধানে আইওসি আগ্রহী হচ্ছে না। তারা এলএনজি ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি চলে যাওয়া কোম্পানিগুলোর বিষয়ে জ্বালানি সচিব বলেন, সান্তোস তো পুরো এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। আর দাইয়ু অযৌক্তিক গ্যাসের দাম বাড়াতে বলছে। চুক্তি অনুসারে এটা সম্ভব নয়। এরপর তারা চলে গেছে।

গ্যাস তুলছে মিয়ানমার-ভারত: ২০১২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার দ্রুত গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান শুরু করে। ২০১৬ সালে থালিন-১ নামক ব্লকে এ গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। থালিন-১ বড় গ্যাসক্ষেত্র। সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস আছে। এখান থেকে গ্যাস তোলা শুরু হয়েছে। এই মজুদ আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় অংশের কৃষ্ণা-গোদাভরি বেসিন এলাকায় প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে বলে আশা করছে ভারত। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি, গুজরাট এস্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বেসরকারি শিল্প গ্রুপ রিলায়েন্স এ এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কাজ করছে। আগামী বছর রিলায়েন্স এই বেসিনের কেজি ডি-৬ ব্লকে তিনটি গ্যাস কূপ খনন করবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের মধ্যে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *