শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

অসমে তৃণমূলের স্বপ্নভঙ্গ! জোটে রাজি নন অখিল গগৈ

দলকে সর্বভারতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরার পাশাপাশি অসমেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার কথা ভেবেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যে অসমের সিএএ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কারিগর তথা রাজৌর দলের নেতা অখিল গগৈকে তিনি তৃণমূল দলে যোগদানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তৃণমূলে যোগ না দিলেও ভাবা হয়েছিল অসমে জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁরা একসঙ্গে লড়বেন। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া তো দূরে থাক, অখিল গগৈ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে তিনি রাজি নন।

তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে তাঁর রাজৌর দলের জোট সম্ভব না হলেও তাঁরা বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে তাঁরা একসাথে কাজ করার আশা করছেন। অখিল গগৈ জানিয়েছেন, “তৃণমূলের সঙ্গে আমরা এখনও পর্যন্ত তিন দফা বৈঠক করেছি। ওঁনারা আমার দল রাজৌরের সঙ্গে জোট করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, আমাকে অসমের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছিল। আমরা দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেব বলেছিলাম। কিন্তু সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা তৃণমূল সঙ্গে মিশে গিয়ে ভোট যুদ্ধে যাব না। রাজৌর একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। আমরা দেশের সমস্ত আঞ্চলিক শক্তিকে একত্রিত করতে চাই এবং বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই।”

মোদী সরকারের আনা নাগরিক সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে অখিল গগৈ দীর্ঘ আঠারো মাসেরও বেশী সময় জেলে কাটান। তিনি বলেছেন, “আমি জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে তার সাথে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি সম্প্রতি দু’বার কলকাতা গিয়েছিলাম এবং তাঁর সাথেও দেখা করেছি।” ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় অখিল গগৈকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

২০২১ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জয়লাভ করার পর একুশে জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ থেকে গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী জোটের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব কম সময়ের মধ্যেই দেশের বিজেপি বিরোধী মুখের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ততটা ক্ষমতা না থাকায় তাঁর পক্ষে কেন্দ্র রাজনীতিতে সদর্পে আবির্ভাব করা মুশকিল বুঝতে পেরে বাংলার নিকটবর্তী ত্রিপুরা ও অসমে দলের প্রসার করবেন বলে তিনি ভেবেছিলেন। অসম এবং ত্রিপুরা উভয় রাজ্যই বিজেপি দ্বারা শাসিত এবং উভয় রাজ্যেই বিপুল সংখ্যক বাঙালী বাস করেন। সেই কারণে প্রথমে এই দুটি রাজ্যে বিস্তারের মাধ্যমেই নিজেদের খুঁটি শক্ত করার পরিকল্পনা ছিল মমতার। সেখানে ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে পুরোপুরি লড়াই শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু অসমে এককভাবে লড়াই করা একটু সমস্যাজনক মনে করেই তিনি অখিল গগৈকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু অখিল গগৈ এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অসমে তৃণমূলের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অসমে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে অখিল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাই তাঁকে পাশে পেলে তৃণমূলের বাড়তি সুবিধা হত বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও ২০২১ সালে অসমের বিধানসভা নির্বাচনে রাজৌর দলের হয়ে বেশকিছু প্রার্থী দিয়েছিলেন অখিল। শিবসাগর কেন্দ্র থেকে নিজে জিতলেও বাকি কোনও কেন্দ্রে তাঁর দলের প্রার্থীরা জিততে পারেনি। এখন অসমে একক ভাবে কীভাবে সংগঠন তৈরী করে তৃণমূল সেটাই দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *