শিরোনাম
বৃহঃ. মার্চ ১৯, ২০২৬

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিজে নিজে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে না: ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মঙ্গলবার যে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, এর কারণ হিসেবে সেখানকার একটি গুদামে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’ মজুদ ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

একটি ভিডিওতে দেখা যায় প্রথম বিস্ফোরণের ফলে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে থাকে। শহরে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই বিস্ফোরণের ভিডিও তুলছিল। কিছুক্ষণ পরই মানুষের চোখের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। যাতে প্রথমে বিশাল আগুনের গোলা দেখা যায় এবং তারপর বাতাসের ঝাপটায় অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো পানি ও বাষ্পের সাদা মেঘের ধোয়া উঠতে উঠতে মিলিয়ে যায়। তারপরই লাল রংয়ের ধোঁয়ার কুণ্ডলী কেমন যেন পাক খেতে খেতে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ঘটে যায়। আর শেষে ওঠা ওই লাল ধোয়া থেকে বুঝা যায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরণ হয়েছে।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট হল এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা প্রধানত সার উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে ও কলকারখানায় এই রাসায়নিকটি কাজে লাগে। খনিতে যে বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয় তার অন্যতম উপাদান হল এটি।

তবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিশেষত্ব হল এটি নিজে বিস্ফোরক পদার্থ নয়, বিশেষ কিছু অবস্থায় বিস্ফোরকে পরিণত হয়ে যায়। বিবিসিকে এ কথা জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ ইনগ্রাম। এই রাসায়নিককে বরং বলা হয় ‘অক্সিডাইজার’, যা আগুনে আরও বেশি করে অক্সিজেন টেনে আনে এবং আগুন আরও বেশি করে জ্বলে ওঠে।

ফিলিপ ইনগ্রাম আরও বলেন, ‘সীমিত জায়গায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে মজুদ করা যায়। কিন্তু যখন জ্বালানি তেলের মতো কোন পদার্থ এর সংস্পর্শে আসে বা মিশে যায় তখন এটি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।’

এদিকে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক গ্যাব্রিয়েল ডি সিলভা ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, দুম করে অ্যামোনিয়া নাইট্রেটে আগুন ধরানো‌ অথবা একটা বিস্ফোরক ঘটানো বেশ কঠিন।

তিনি আরও বলেন, তবে তেল বা ওই জাতীয় কিছু সংস্পর্শে কোনওভাবে অ্যামোনিয়া নাইট্রেট দূষিত হয়ে গেলে তখন সেটা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। আর তারপর আগুনের সংস্পর্শে এলে এটি অত্যন্ত সক্রিয় বিস্ফোরক হিসেবে কাজ করে। আর বিস্ফোরিত হলে তখন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়ার মত বিষাক্ত গ্যাস বের হতে থাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *