শিরোনাম
শুক্র. জানু ২, ২০২৬

আকবরদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে যে পরিকল্পনা

এ বছর ইতিহাস রচনা করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বছরের শুরুতেই শিরোপা হাতে দেশে ফেরে আকবর আলীর দল। তাদের জন্য ছিল সোনালী পথে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ। আত্মবিশ্বাসী, টগবগে যুব ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ছিল দারুণ সব পরিকল্পনা। সব শেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও সুযোগ পেয়েছিলেন যুবাদের কয়েকজন। কিন্তু করোনা ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে আকবরদের আত্মবিশ্বাসের বছরটি। কবে মাঠে খেলা ফিরবে তা কেউ বলতে পারছে না। তাই যুব ক্রিকেটারদের নিয়ে সব আয়োজন পড়েছে মুখ থুবরে।

বিসিবি দুই বছরের জন্য তাদের চুক্তিতে রাখে। কিন্তু এর মধ্যে ৫ মাসেও তাদের ব্যাট-বলে নৈপুণ্য দেখানোর সুযোগ হয়নি। যত দিন যাচ্ছে তাই বাড়ছে দুশ্চিন্তাও। এ বিষয়ে যুব বিশ্বকাপে দলের ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কায়সারের কণ্ঠেও ঝরে বিষন্নতা। নানা উৎকণ্ঠা আছে বিশ্বকাপে দলটির ফিল্ডিং কোচ সাবেক ক্রিকেটার ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সেরও। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে যুব দলকে দ্রুত ফিরিয়ে তৈরি করা যায়? এ নিয়ে কায়সার বলেন, ‘আসলে সারা পৃথিবীর অবস্থা একই রকম। করোনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। তাই কবে ক্রিকেট শুরু করবো তা বলা কঠিন। ওদের জীবন (অনূর্ধ্ব-১৯ দল) থেকে মূল্যবান সময়গুলো চলে যাচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল অনেক। কিছুই করা যাচ্ছে না। চিন্তা তো থাকবেই, তবে আমরা ঠিক করেছি মাঠে ফিরলেই যত দ্রুত সম্ভব ওদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার।’


করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক কথায় ভয়াবহ। তবে মাঠে খেলা ফিরলে বিসিবি ভেবে রেখেছে আকবরদের নিয়ে করণীয়। এ বিষয়ে কায়সার বলেন, ‘এখন ওরা বাসায় ফিটনেস ঠিক রাখার কাজ করছে। ওদের ফিজিওকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর এই ছেলেগুলোও নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করছে। প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। ওদেরকে যে গাইড লাইন দিয়েছি সেভাবে চলছে। এখন সমস্যা হলো ওদের নিয়ে প্রোগ্রামের সময়টা নিয়ে। এরই মধ্যে পাঁচ মাস চলে গেছে। ধরে নিলাম জুলাইয়ে খেলা মাঠে ফিরলো বা আগষ্টে, তখন ওদের ৩ মাসের একটা ট্রেনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে। তখন আমাদের যদি ঘরোয়া ক্রিকেট থাকে ওরা সেখানে খেলবে। আর এইচপির প্রোগ্রাম শুরু হলে সেটির সঙ্গেই ওদের ট্রেনিংয়ের কাজটা শুরু হবে। যেটি বলা হয়েছিল অনূর্ধ্ব-২১ দল হিসেবে ওদের এগিয়ে নেয়ার কথা। সেটি আমরা বলবো হাইপারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত করে করতে। সাধরণত এপ্রিল মাসেই এইচপির কাজ শুরু হয় কিন্তু এবার সেটি হয়নি।


শারীরিক ফিটনেসের সঙ্গে মানসিকভাবেও যেন আকবর, সাকিব, তামিমরা ভালো থাকে তা নিয়েও বিসিবি কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিসিবির গেম ডেভলপমেন্টের ম্যানেজার বলেন, ‘ওদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখাও আমাদের দায়িত্ব। শারীরিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে কিন্তু মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তা ফেরানো কঠিন। এ জন্য ওদের আমরা বেশি বেশি করে খেলার ভিডিও দেখতে বলেছি। এছাড়াও আর্থিকভাবে যেন কোনো সমস্যা না হয় কথা অনুসারে ওদের এক লাখ টাকা করে বেতন নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। যেন ওরা বুঝতে পারে যে ওদের সব রকম সাপোর্ট দিতে আমরা প্রস্তুত।’


আরো এক বছরের চুক্তি চান ডিকেন্স
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। তার মতে যে সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে আকবরদের জীবন থেকে তা ফিরিয়ে আনা যাবে না। তবে দুই বছরের যে চুক্তি ছিল সেটি যেন আরো এক বছর বাড়িয়ে ওদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এই দলটা যখন বিশ্বকাপে খেলতে যায় কেউ জানতো না তারা শিরোপা জিতবে। কিন্তু ওরা একসঙ্গে হয়ে সেটি করে দেখিয়েছে। ওরা দারুণ একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফিরেছিল। সুযোগ ছিল দারুণভাবে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তা হয়নি। এখন আমার বিসিবির কাছে অনুরোধ থাকবে ওদের নিয়ে যে দুই বছরের পরিকল্পনা ছিল তা যেন আরো এক বছর বাড়ানো হয়। কারণ একটা বছর তো প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে বসে বসে। কবে মাঠে খেলা ফিরবে তার ঠিক নেই। ওরা টাকা পাচ্ছে ঠিক আছে কিন্তু টাকার চেয়ে বড় এই দলটিকে ধরে রাখা, ওদের আরো একটা বছর একসঙ্গে থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়া, যেন একটি সেরা দল হয়ে থাকতে পারে।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *