শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ২৪, ২০২৬

আগে নিরপেক্ষ সরকার, ইসি গঠন পরে: বিএনপি

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এই খসড়া প্রণয়নে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আজ সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এ বৈঠকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানা গেছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলেন, নির্বাচনবিষয়ক রূপরেখায় প্রাধান্য পাবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচন কমিশনসহ (ইসি) নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। এই সরকারের অধীনে আর ইসি গঠনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার সম্ভব নয়। এই অবস্থায় এ সরকারের অধীনে আগামীতে যে ইসি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নয় বিএনপি। দলটি মনে করে, কেবল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নিরপেক্ষ ইসি গঠনসহ ভঙ্গুর নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার সম্ভব। ফলে বিএনপি এখন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের মূল দাবি হচ্ছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন। এ লক্ষ্যেই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সময়-সুযোগ বুঝে আমরা জাতির সামনে এ রূপরেখা তুলে ধরব। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এ ধরনের নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই এই সরকারের অধীনে সম্ভব নয়- এটি ২০১৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। বিগত নির্বাচনের তথ্যই বলে দেয় নির্বাচন কমিশন যতই শক্তিশালী হোক নিরপেক্ষ সরকার না হলে ওই নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয় না।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় ইসি গঠনে সার্চ কমিটি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে করণীয় নিয়ে বৈঠক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের উচ্চপর্যায়ের কয়েক নেতার নেতৃত্বে ১২ দফার একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়। সেই খসড়া রূপরেখাকে নমুনা ধরে ১০ দিন গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও পেশাজীবীদের নিয়ে রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। ওই বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভাপতিত্ব করেন।

এসব বৈঠকে ৪২২ জন তাদের মতামত দেন। দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা রূদ্ধদ্বার এ বৈঠক থেকে পাওয়া মতামতকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক- এই তিন ভাগে ভাগ করে একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেন। সারসংক্ষেপ তৈরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল বলেন, আমরা সারসংক্ষেপ তৈরি করে দলের কাছে জমা দিয়েছি।

জানা গেছে, ওই সিরিজ বৈঠকের মূল কথা ছিল- বর্তমান সরকারের অধীন আর কোনো নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামতে হবে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে। জোটগতভাবে আন্দোলন না করে যুগপৎ আন্দোলন গড়া, বর্তমান ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাঠামোকে আর সক্রিয় না করা, দেশি-বিদেশি মহলের বৈরিতা কাটাতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক না রাখা, দলের কূটনৈতিক উইং ঢেলে সাজানো ও দল পুনর্গঠনে আরও মনোযোগ দেওয়া ইত্যাদি।

জানা গেছে, উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মতামত ছিল ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট না ভেঙে সুনির্দিষ্ট রূপরেখার ভিত্তিতে বৃহত্তর মঞ্চ গড়ার। সিরিজ বৈঠক ও রূপরেখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো রূপরেখা দিতে চাই না। এমন একটি রূপরেখা দেব, যেটা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়। বিশেষ করে, যেসব স্টেক হোল্ডার রয়েছে, দেশের সুশীল সমাজ রয়েছে, রাজনৈতিক দল রয়েছে সবার মতামত আমাদের রূপরেখায় থাকবে।

ইসি গঠন প্রক্রিয়ায় বিএনপি অংশ নেবে কিনা জানতে চাইলে আলাল বলেন, আগেরবার ইসি গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলাম। সেই কমিশনের কাজকর্ম তো সবাই দেখছেন। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট- আগে নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে, তারপর ওই সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এটিই হবে আমাদের দাবি।

দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নিতে চিঠি দেবেন। সেখানেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠনের অনুরোধ করা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *