শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

আপিল নিষ্পত্তির আগেই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অভিযোগ

কোনো আসামির দণ্ড কার্যকর করার আগে নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসামির পক্ষ থেকে আপিল করার কথা। কিন্তু একটি মামলার চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তির আগেই মোকিম ও ঝড়ু নামের দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের অভিযোগ ওঠেছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ১১ নম্বর ক্রমিকে ছিলো মামলাটি। চার বছর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুজনের আপিল শুনানি হয়নি।

নিয়মানুযায়ী, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে অনুমতি প্রয়োজন হয় হাইকোর্টের। হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন দিলে রায় কার্যকরের নিয়ম। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করলে সেক্ষেত্রে তা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। হাইকোর্ট কর্তৃক কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের পর আপিল দায়ের করা হলে আপিল বিভাগ থেকে কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ডিসির কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা যায়।

আদালত সূত্র জানায়, আসামি মোকিম ও ঝড়ু চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বাসিন্দা। ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন একই এলাকার সাবেক মেম্বার মনোয়ার হোসেন খুন হন। ওই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই মো. অহিমউদ্দিন বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মোকিম ও ঝড়ুর নাম আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এই মামলার বিচারে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, দুজনকে যাবজ্জীবন ও অপর আসামিদের খালাস দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২। আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন একই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোকিম ও ঝড়ুকে।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুসারে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। মামলার ডেথ রেফারেন্স নম্বর ছিল ৩৯/২০০৮। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মোকিম ও ঝড়ুর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে ২০১৩ সালের ৭ জুলাই ও ৮ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করেন। বাকি আসামিদের খালাস পান।

পরে মোকিম (আপিল নং- ১১১/২০১৩) ও ঝড়ু (আপিল নং- ১০৭//২০১৩) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। মোকিমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. হুমায়ুন কবির।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর আপিল মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় ওঠার পর দরিদ্র মোকিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির। যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন আপিল নিষ্পত্তির আগেই ২০১৭ সালে মোকিমের ফাঁসি কার্যকর করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। অপর আসামি ঝড়ুর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে।

আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপ্রার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি, কনডেম প্রিজনার মোকিম ও ঝড়ুর মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। মূলত মোকিম ও ঝড়ুর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই তাদের পরিবারের সদস্যরা সেভাবে মামলার বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারেননি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *