শিরোনাম
মঙ্গল. মার্চ ৩, ২০২৬

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

বছর ঘুরে আবারও এসেছে ২৫ আগস্ট। ২০১৭ সালের আজকের দিনে মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আসতে শুরু করে বাংলাদেশে। ঘটনাটির চার বছর পূর্ণ হলো আজ। গত চার বছরে লাখ লাখ রোহিঙ্গার একজনও তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে পারেনি। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হলেও বন্ধুদেশগুলোর সহায়তার কারণে মিয়ানমার সরকার নির্যাতিত জনগোষ্ঠীকে ফেরত নেওয়ার জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেনি। এদিকে নতুন নতুন বৈশ্বিক সমস্যা তৈরি হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুর গুরুত্ব।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু পঞ্চম বর্ষে পড়েছে। যেহেতু আফগানিস্তান, তালেবান ও আফগান উদ্বাস্তু নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সুতরাং আমরা চাইবো না রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যে আগ্রহ আছে সেটি অন্যদিকে সরে যাক।’

হতাশ রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে না পারলেও মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এই সংখ্যাটি এখনও এত বেশি নয়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের স্টাডি করতে হবে‑ কি বিষয়, কারা এটি করছে, বাইরের কারো ইন্ধন আছে কিনা এবং মানবপাচারকারীরা জড়িত কিনা।’

রোহিঙ্গাদের মধ্যে মানবপাচারকারী আছে এবং সে কারণে বিষয়টি আরও ঘোলাটে হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তবে আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

অন্যান্য উদ্বাস্তু পরিস্থিতি অনেক বছর ধরে চলেছে বা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্যালেস্টাইন বা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এধরনের অবস্থা ছিল বা রয়েছে।

রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রাখাইনে যদি সহায়ক পরিবেশ না থাকে এবং রোহিঙ্গারা যদি বিপদ বোঝে, নিরাপদ বোধ না করে, তবে তারা ফেরত যেতে চাইবে না, এটিই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ‘গোটা বিষয়টি স্বেচ্ছায় হতে হবে, অন্যথায় আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী হবে বিষয়টি।’

মানসিক প্রস্তুতি

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে খুব স্বস্তির মধ্যে আছে এবং এখানেই থেকে যেতে চায় বলে মনে করেন না পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে যা আছে সবই অস্থায়ী। মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ রাখছি।’

কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাদের শিক্ষার বিষয়টি আসছে কিন্তু বাংলাদেশ চায় তাদেরকে মিয়ানমার কারিকুলামে শিক্ষা দেওয়া হোক। কারণ এর মাধ্যমে মিয়ানমারে ফেরত গেলে সেটি তাদের কাজে লাগবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘তাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছি আমরা যে তারা সেখানে ফিরে যাবে।’

রাখাইন পরিস্থিতি

চার বছর আগে রাখাইনে যে পরিবেশ ছিল তার থেকে এখন পরিবেশ অনেক ভালো বলে মনে করেন মাসুদ বিন মোমেন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি রাখাইনে চার বছর আগের থেকে এখন অনেক ভালো পরিস্থিতি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারির পরে মিয়ানমারে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ফলে অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিন্তু রাখাইনে আমরা ওরকম কোন কিছু দেখিনি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের আরও বেশি কাজ করা উচিত এবং সীমান্তের ওপারে রাখাইনে তাদের কার্যক্রম আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘রাখাইনে অনেকগুলো বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প রয়েছে এবং সেগুলোকে ভেঙে দিতে আমরা অনেকদিন ধরে বলছি। কারণ এর ফলে তারা যদি তাদের গ্রামে ফেরত যায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার জন্য উৎসাহিত হবে।’

আসিয়ান দূত

মিয়ানমার বিষয়ে আসিয়ান দূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেছে এবং আমরা তার সঙ্গে আগামীতে ভার্চুয়াল বৈঠক করব বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘তাঁকে ঢাকায় আসার জন্যও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে দাওয়াত দিয়েছেন।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা চাইছি প্রত্যাবাসন বিষয়টিও যেন আসিয়ান গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং এজন্য আমরা ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের রাষ্ট্রদূতরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *