শিরোনাম
শুক্র. মার্চ ১৩, ২০২৬

আমানতে শীর্ষে সোনালী ব্যাংক, ঋণ বিতরণে ইসলামী ব্যাংক

দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত সংগ্রহে সবার শীর্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঋণ বিতরণে সবার শীর্ষে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৮৭ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের জুন শেষে সাধারণ ব্যাংকিং থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে ৪২৯ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটি তার ১২২৪টি শাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করেছে ৫৩ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ তুলনামূলকভাবে অনেক। যদিও মোট পরিমাণের দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান দ্বিতীয়।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান বলেন, সোনালী ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে। করোনার মধ্যেও গত এক বছরে আমানত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এর পরও ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ অন্য ব্যাংকগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। সোনালী ব্যাংক সরাসরি গ্রাহককে ঋণ না দিয়ে বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ দিয়ে থাকে। অনেক দিক থেকে দেশের শীর্ষ ব্যাংক সোনালী।

দেশের ব্যাংকের আমানতে সংগ্রহে দ্বিতীয় এবং ঋণ বিতরণে প্রথম অবস্থানে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির শাখা সংখ্যা ৪৫০টি। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি ১ লাখ ২৩৭ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে ৮৭ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা বিনিয়োগ (ঋণ) করেছে।

আমানত সংগ্রহে তৃতীয় ও ঋণ বিতরণে শীর্ষ চারে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। অগ্রণী ব্যাংক ৭৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে ৪৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। অন্যদিকে জনতা ব্যাংক চতুর্থ সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহকারীর অবস্থানে থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ঋণ বিতরণ করেছে। জনতা ব্যাংক ৬৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে ৫২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। আরেক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক আমানত সংগ্রহে পঞ্চম হলেও ঋণ বিতরণে পিছিয়ে। ব্যাংকটি ৪৮ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। তবে ঋণ বিতরণ করেছে ২৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে পূবালী ব্যাংকের আমানত ৩৮ হাজার ৯৩৫ কোটি এবং ঋণ ২৬ হাজার ৯৬৫ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানত ৩৮ হাজার ৭১৭ কোটি এবং ঋণ ৩৮ হাজার ৯৩৩ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানত ৩৭ হাজার ১২৫ কোটি এবং মোট ঋণ বিতরণ করেছে ৩৭ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি আমানত সংগ্রহ করে। কিন্তু তাদের ঋণ বিতরণের পরিমাণ অনেক কম। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করে সেই তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেশি। সরকারি ব্যাংকগুলোয় সংগৃহীত আমানত ঋণ বিতরণ না করে অলস রাখা হয় বা অন্য ব্যাংকগুলোকে অর্থ ধার দেয়। এমনও বেসরকারি ব্যাংক আছে যাদের আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেশি। সরকারি ব্যাংকগুলোয় আমানত বেশি হওয়ার মূল কারণ সারাদেশে শাখা সংখ্যা অনেক বেশি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর আমানতের বড় অংশ রাখা হয় সরকারি ব্যাংকেই।

আইন লঙ্ঘন করে আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেশি করায় অনুমোদিত এডিআর সীমা লঙ্ঘন করেছে দেশের ১১টি ব্যাংক। এ তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি দুর্বল ব্যাংক বেসিক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এবি, এক্সিম, ন্যাশনাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ওয়ান, পদ্মা (ফারমার্স ব্যাংক), এনআরবি গ্লোবাল, ইউনিয়ন ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও বেসরকারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ইউনিট এডিআর সীমা লঙ্ঘন করেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *