শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

আমার কাছে চলচ্চিত্র শিল্প এখন মৃত লাশের মতো : সোহেল রানা

সোহেল রানা। প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা- সব ক্ষেত্রেই সফল তিনি। পৌনে তিনশত ছবিতে অভিনয় করেছেন। ৩৫টি ছবি প্রযোজনা এবং অর্ধশত ছবি পরিচালনা করেছেন। যদিও তার নায়ক খ্যাতির আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে প্রযোজক, পরিচালক পরিচয়। স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্রের এই জীবন্ত কিংবদন্তি বর্তমানে কেমন আছেন? সোহেল রানা জানান, তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা মোটামোটি ভালো। যদিও বার্ধক্য জনিত ও কিছু রোগে ভুগছেন।

তবে রুটিন মাফিক জীবন ও চিকিৎসকের পরামর্শে খানিকটা সুস্থতার সঙ্গেই জীবন যাপন করতে পারছেন। নামাজ আদায়, কোরআন শরীফ পড়া, খাওয়া দাওয়া, ঘুম এই ছকেই বন্দি সোহেল রানার জীবন। তিনি বলেন, পুরোনো দিনের কথা ভাবি মাঝেমাঝে। অনেক স্মৃতিই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আগের আর এখনকার চেহারা মেলাতে পারি না। টেলিভিশন, ফেসবুকে আমার ছবি দেখলে অজান্তেই চোখে পানি আসে। কোনো দুঃখ, হতাশা বা বেদনায় না। এমনিতেই এমন হয়।

বাংলা সিনেমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে সোহেল রানা বলেন, কয়েক বছর আগে বলেছিলাম চলচ্চিত্র শিল্প লাইফ সাপোর্টে আছে। তখন অনেকে এই কথা শুনে হাসি-ঠাট্টা করেছিল। সবাই বলেছিল ঠিক বলিনি। এখন অবস্থা নিয়ে কি বলবো! আমার কাছে চলচ্চিত্র শিল্প এখন মৃত লাশের মতো। কেন বললাম এটা কারণ বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। বুঝে নিন সবাই। এখন সব নতুন করে শুরু করতে হবে। যে জাতির কালচারাল পরিচয় নেই সে জাতি পৃথিবীতে টিকে থাকবে না। এই দুরবস্থায় দেশের সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছি।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের পর পরই চলচ্চিত্রে নাম লেখান সোহেল রানা। প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ ছবির মাধ্যমে। তার চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হলো ‘পারভেজ ফিল্মস’। প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে হয়ে গেলেন নায়ক। ‘মাসুদ রানা’ শিরোনামের ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিষেক তার। মাসুদ পারভেজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায়। তার জন্ম ঢাকায় হলেও পৈতৃক বাসস্থান বরিশাল জেলায়। তার স্ত্রী ডা. জিনাত পারভেজ এবং একমাত্র সন্তান মাশরুর পারভেজ জীবরান। পুত্রও চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *