নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মার্কিন মুলুকের একটি বিশেষ আদালতের বিচারক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুককে ২০১৮ সালে বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, এই অ্যাকাউন্টগুলি মায়ানমারে রোহিঙ্গা বিরোধী হিংস্রতার সঙ্গে যুক্ত। এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্সও ।
উল্লেখ্য, মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর ৭,৩০,০০০- এরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বাংলাদেশ সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে। রয়টার্সের সূত্রে আরও বলা হয়েছে, গত বুধবার ফেসবুকের সমালোচনা করেন ওয়াশিংটন ডিসির এক বিচারক। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ফেসবুকের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে, এই তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকার করেছে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ফেসবুকও । তাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে , এটি আমেরিকার আইনের বিরোধী। যা বৈদ্যুতিন যোগাযোগ পরিষেবাগুলোকে ব্যবহারকারীদের তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখে। তবে বিচারক আরও বলেন, যে পোস্টগুলো ডিলিট করা হয়েছে সেগুলো আইনের আওতায় পড়বে না। তাই এগুলো শেয়ার না করলে রোহিঙ্গাদের উপর যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে তার মাত্রা আর বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই প্রসঙ্গে মায়ানমারে অত্যাচারিত রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে বৈষম্যপূর্ণ মানুষ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন রোহিঙ্গারা মায়ানমারের অনেক জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে অন্যতম একটি গোষ্ঠী । ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে দেশত্যাগের পূর্বে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা মুসলিমরা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করতেন। কিন্তু সুকির সরকারের শাসনাকালে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে ৭,৩০,০০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

