আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে ৮ হাজার ৫৭১টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন বা এসটিআর জমা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বেড়েছে ইকমার্স জালিয়াতি।
তবে সন্দেহজনক এসব লেনদেনে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তার কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)।
বিএফআইইউ প্রকাশিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিএফআইইউ জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে এমন সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ৫৭১টি। যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ২৯১টি বা ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৮০টি।
সংস্থাটি জানায়, গত অর্থবছরে মোট ৮ হাজার ৫৭১টি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। টাকার অঙ্কে এ লেনদেনের পরিমাণ ২১ লাখ ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
পাশপাশি ওভার ইনভয়েসিং ঠেকাতে পারলেও বন্ধ করা যায়নি আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি। এছাড়া গত অর্থবছরে যেমন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে তেমনি বেড়েছে জালিয়াতি।
গত অর্থবছরে সন্ত্রাস ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে পুলিশ, গোয়েন্দা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে ৮৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বিএফআইইউ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, যাচাইবাছাই শেষে ৮৩৩টি লেনদেনর বিষয়য়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
অর্থ পাচারের বিষয়ে মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ‘কেউ কেউ আমদানি পণ্যের দাম ২০ থেকে ২০০ শতাংশ বেশি দেখিয়েছেন আবার গাড়ি আমদানিতে দাম কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।’
ইকমার্সে জালিয়াতির বিষয়ে বিএফআইইউ বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানেও সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে। ৫২টি ইকমার্স প্রতিষ্ঠানের ওপর তদন্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের সারাংশ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডিজিটাল হুন্ডি প্রতিরোধে কাজ করছে বিএফআইইউ কাজ করছে জানিয়ে সংস্থাটির প্রধান বলেন, ‘এই অপতৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বেশ কিছু পরিবেশক ও এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

