গুয়াহাটি: শোণিতপুর জেলার বরসলা নির্বাচন ক্ষেত্রের ঠেলামারা ভরাশিঙরিতে গতকাল সংঘটিত গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ঢেকিয়াজুলি ও ঠেলামারায় সান্ধ্যআইন জারি করেছে প্রশাসন। জেলাশাসকের গাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। গোটা অপ্রীতিকর এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রের হাত রয়েছে। অসমকে পূর্ববঙ্গীয় মূসলমানপ্রধান রাজ্য বানানোর চক্রান্তের প্রতিফলন এটা। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক আক্রমণ চালানো হয়েছে শান্তিপূর্ণ মিছিলকারী যুবকদের উপর। গোটা ঘটনার আড়ালে মদত জুগিয়েছে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ। অভিযোগ অসম সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা প্রদেশ বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সৈয়দ মমিনুল আওয়াল গরিয়ার।
হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে টেলিফোনিক বার্তালাপে মমিনুল আওয়াল বলেন, ৫ আগস্ট ভারতের ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন। সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে অযোধ্যায় রামজন্মভূমির দীর্ঘ পাঁচশো বছরের পুরোনো বিবাদের সমাধান হয়েছে। সমগ্র দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে রামমন্দির পুনর্নির্মাণের ভূমিপূজন হিসেবে আনন্দ উত্সবে মেতে উঠেছেন। কিন্তু শোণিতপুর জেলার ঠেলামারা বরসলা বিধানসভা ক্ষেত্রের ভরাশিঙরি অঞ্চলের হরগৌরী মন্দিরে রামমন্দিরের ভূমিপূজন উপলক্ষ্যে আনন্দোত্সব উদযাপনকে কেন্দ্র করে যে অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তা কোনও ভারতীয় মানুষ সমর্থন করবে না। আনন্দ মিছিল আটকে দিয়ে গাড়ি বাইককে অগ্নিসংযোগ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এমন-কি ওই ঘটনার পর শোণিতপুরের জেলাশাসক মানবেন্দ্র প্রতাপ সিঙের গাড়িতে হামলা চালাতেও পিছপা হয়নি দুষ্কৃতকারীর দল।
মমিনুল আওয়াল গরিয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা সৃষ্টিকারীরা কখনও ভারতীয় হতে পারে না। কাগজেপত্রে এরা নিজেদের ভারতীয় বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে এই সব হামলাবাজ বিদেশি মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নবাদী ভারতীয়। যা সংগঠিত করা হয়েছে তাতে এদের তন মন ধন প্রভৃতি বিচ্ছিন্নতাবাদী পাকিস্তানি উগ্রবাদী আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে। ভারতের কৃষ্টি সংস্কৃতিতে বিশ্বাস ও আস্থা সংবলিত মানুষ কখনও এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত পারে না। এই হিংসাত্মক ঘটনাকে আন্তর্জাতিক চক্রের পূর্ব পরিকল্পিত ব্লুপ্রিন্ট বলে মনে করেন মমিনুল।
ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের রিপুন বরাকে সতর্ক করে বলেছেন, অসমকে কখনও পূর্ববঙ্গীয় মূসলমানপ্রধান রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা সফল করতে দেওয়া হবে না। বলেন, কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে অনুসন্ধান চালালে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অসমকে নিয়ে কংগ্রেসিদের চিন্তাভাবনা কী? এছাড়া রামমন্দির পুনর্নির্মাণের আনন্দোত্সবকে ঘিরে শোণিতপুরে সংঘটিত ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমানদের প্রতি এআইইউডিএফ যুব ফ্রন্টের নেতারা যেভাবে নিষ্প্রদীপ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন তাতে উভয় রাজনৈতিক দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি এআইইউডিএফ দলের প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেন, আসলে ভারতের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুসারে রাজনৈতিক দলের অনুমতি পেয়েছে এআইইউডিএফ। কিন্তু বর্তমান রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে কংগ্রেস এআইইউডিএফের সঙ্গে জোট বন্ধনের পরিকল্পনা হতাশাজনক। কারণ কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ অসমকে পূর্ববঙ্গীয় মুসলমানপ্রধান রাজ্য বানানোর অপচেষ্টা করছে। এটা তাদের রাজনৈতিক আচার আচরণ তথা কার্যপ্রণালীতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
মমিনুল আওয়াল আরও বলেন, শোণিতপুরে সংগঠিত অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুরক্ষা প্রদান করছেন কংগ্রস ও এআইইউডিএফের একাংশ তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও নেতারা। ফলে এই ঘটনার পেছনে গভীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বারবার কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি রিপুন বরাকে সতর্ক করে বলেন, কোনও চক্রান্তই অসমকে বাংলাদেশি মূসলমানদের রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা সফল হবে না। অসম অসমিয়া জাতি ও খিলঞ্জিয়াদের জন্য থাকবে বরাবর।
মমিনুল আওয়াল গরিয়া রামমন্দির প্রসঙ্গে বলেন, রামমন্দির হচ্ছে ভারতের ঐতিহাসিক গৌরব ও ভারতবর্ষের বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ধর্মের মানুষের সমন্বয়ের প্রতীক। রামচন্দ্র কোনও বিশেষ ধর্মের ব্যক্তিত্ব নন। রামচন্দ্র ভারতের মহাপুরুষ ছিলেন। একাধিক আদর্ণ ও শক্তির প্রতীক রামচন্দ্র। ভারতের হাজার হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাসের সাথে রামচন্দ্রের ইতিহাস জড়িত। তাই দেশের ইতিহাস না জেনে আজ যারা রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে আশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করতে চাইছে এরা কোনওভাবে ভারতীয় হতে পারে না। পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন উগ্রবাদী দুষ্কৃতীদের সুরক্ষার ভূমিকায় রয়েছেন একাংশ ছদ্মবেশী জাতীয়তাবাদী নেতা ও বুদ্ধিজীবী। শোণিতপুরের ঠেলামারায় শান্তিপ্রিয় মিছিলে দা, লাঠি নিয়ে আক্রমণ চালানো দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে তথাকথিত জাতীয়তাবাদী নেতারা নিশ্চুপ কেন? প্রশ্ন তুলে বলেন, এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমানদের প্রতি এআইইউডিএফের যুব ফ্রন্টের নিষ্প্রদীপ আন্দোলনের আহ্বান জানানোর ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে কংগ্রেস ও এই দলের ভূমিকা। মমিনুল আওয়াল কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, সত্সাহস থাকলে দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করুক।
উল্লেখ্য, গতকাল ৫ আগস্ট রামমন্দির পুনর্নির্মাণের ভূমিপুজন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সমগ্র দেশের সঙ্গে আনন্দোত্সবে শামিল হয়েছিল শোণিতপুর জেলা বজরং দল, রামসেনা, বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও বরসলার স্থানীয় হরগৌরী মন্দিরের কর্মকর্তারা। আনন্দ মিছিল বের করা হয়েছিল স্থানীয় রাস্তায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ মিছিলে আচমকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় দুষ্কৃতীরা। মন্দিরের পূজারি সহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন যুবককে আটকে রাখার পাশাপাশি দুটি বাইক সহ ম্যাজিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এলাকায়। জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করে। ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলাশাসক তথা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মানবেন্দ্র প্রতাপ সিং। তাঁর গাড়িতেও ইট পাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। উত্তেজিত দুষ্কৃতীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে শূন্যে দশ রাউন্ড গুলি চালাতে হয়েছে।
সংবাদ সূত্র: হিন্দুস্থান সমাচার / বিশু / এসকেডি / অরবিন্দ

