শিলচর (অসম) : আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে রাজ্য এবং জেলা প্রশাসন ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকার এক রকম বিজ্ঞপ্তি জারি করছে আর কাছা জেলা প্রশাসন অন্যরকম। এতে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন নির্দেশ জারি করে বলেছে স্থায়ী মণ্ডপ না থাকলে পুজো করা যাবে না। এটা কী করে সম্ভব? কোনও অবস্থায় তা সম্ভব নয়। কারণ যাঁরা মণ্ডপ তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা পুজো করবেনই। এছাড়া পূজারিদের কোভিড টেস্ট করার কথা বলা হচ্ছে, তা-ও কোনও পূজারি মানবেন না। এই নিয়ম দেখে পূজারিরা ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন তাঁরা এবার মায়ের পূজা করবেন না। কাছাড়ের জেলাশাসক কি চান না এবারের দুর্গা পূজা সুন্দরভাবে হোক? প্রশ্ন তুলেছেন সারা কাছাড় হাইলাকান্দি করিমগঞ্জ ছাত্র সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা আইনজীবী প্রদীপ দত্তরায়।
প্রাক্তন ছাত্রনেতা বলেন, করোনার জন্য আমরা সবাই আতঙ্কিত, সবাই চিন্তিত। কিন্তু পুজো মণ্ডপ কিংবা উঁচু মূর্তির সঙ্গে করোনার কী সম্পর্ক তা জেলাশাসক একবারও জনসাধারণকে বুঝিয়ে বলেননি। তিনি বলেন, জেলাশাসকের উচিত ছিল সমস্ত ক্লাব এবং পূজা কমিটির সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু তিনি তার প্রয়োজন বোধ করেননি। তাই জেলাশাসকের সিদ্ধান্তে জনসাধারণ অত্যন্ত বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধও। প্রদীপ বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের উদ্যোগে যে দুর্গাপূজা হয় সেখানে কীভাবে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে তা কি জেলাশাসকের নজরে পড়ছে না?
তাই, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা যেভাবে প্যান্ডাল তৈরি করেছেন সেভাবে অন্যান্য পুজো কমিটিকে প্যান্ডাল তৈরির অনুমতি দিতে হবে জেলাশাসককে। করোনা সংক্রমণ রোধ করতে তিনি পুজোর অনুষ্ঠান কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছেন। বলেছেন, মণ্ডপে কোনও ভিড় হতে পারবে না। ২০ জনের বেশি মণ্ডপে ভক্তরা প্রবেশ করতে পারবেন না প্রভৃতি। কিছুদিন আগে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা এখানে সভা করে গেছেন। সেখানে হাজারেরও বেশি মানুষ ছিল। জেলাশাসক নিজে উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়। সে সময় করোনার প্রটোকল কোথায় গিয়েছিল?
প্রশ্ন তুলে আইনজীবী দত্তরায় বলেন, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে এক নিয়ম আর পুজোর ব্যাপারে অন্য নিয়ম? তা-তো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুর্গা পূজার জন্য সারা বছর ধরে মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন। দুর্গাপূজা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মনে হচ্ছে একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে। জেলাশাসক অন্যের পরামর্শেই এ রকম উল্টোপাল্টা আদেশ জারি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বক্তা। এ প্রসঙ্গে যারা ভুল পরামর্শ প্রদান করছেন তাদের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য জেলাশাসককে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বক্তা প্রদীপ বলেন, হাইলাকান্দিতে যখন তিনি জেলাশাসক ছিলেন তখন সবাই তাঁর কাজকর্মে প্রশংসা করেছেন। কাছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক জেলায় এসে সাম্প্রতিককালে তাঁর কাজকর্ম দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে জনমনে। তিনি বলেন, কাছাড় গোটা অসমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। তাই জেলাশাসককে রাজনৈতিক দলের নেতাদের পরামর্শ গ্রহণ না করে নিজের ব্যক্তিত্বের উপর আস্থা রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রদীপ দত্তরায়। শাসক দলের দু-একজন নেতার পরামর্শ ও তাঁদের তোষামোদ করে আমলাতন্ত্র চলতে পারে না। তাই জেলাশাসক যে সব নিয়ম চালু করতে চাইছেন সেগুলো জনগণ মেনে নেবেন না। কারণ দুর্গা পূজা বলে কথা। এখানে জনগণের নিয়মেই হবে পূজা। এর পর যদি জেলা প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয় তা হলে জনগণ রুখে দাঁড়াবেন। তাই পূজা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে জেলাশাসকের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন প্রদীপ দত্তরায়। বিশু / এসকেডি / অরবিন্দ

