গত ৩০ শে আগষ্ট অসমের গুয়াহাটির কাহিলীপাড়ায় রাজ্যের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগুর পৌরহিত্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আসু সহ ৩৪ টি সংগঠনকে এই বৈঠকে যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানালেও এই বৈঠকে ডাক পাননি বাঙালি তথা বরাকের প্রতিনিধিত্বকারী কোন সংগঠন। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল বরাক ডেমোক্রেটিক যুবফ্রন্ট। এক প্রেসবার্তায় যুবফ্রন্টের মুখ্য আহ্বায়ক কল্পার্ণব গুপ্ত বলেন যে যারা সরকারি তরফে এই বৈঠকে ডাক পেয়েছেন তাঁদের প্রায় সবকটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা বা পাহাড়ের। এমন একটিও জাতি উপজাতি সংস্থা নেই যারা এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি। শুধু বাদ গেল বাঙালি তথা অসমের বরাক উপত্যকার সংগঠন। তিনি বলেন সরকার যে শুধু ভোটব্যাঙ্ক ছাড়া এই অসমের বাঙালিদের মানুষ বলেই ভাবেন না তার এরচেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে ? নাহলে অসমের সমস্ত জাতি, উপজাতিদের কথা তাদের মনে থাকে,অথচ রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর কথা ভুলে যান,এ হতে পারেনা।
তিনি বলেন যে আমাদের দুর্ভাগ্য যে বাঙালিদের একাংশ এসবের পরও শাসকদলের তৈলমর্দন করে চলেছেন। কল্পার্ণব আরো বলেন যে এর আগেও বহুবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাঙালি তথা বরাকের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়নি,যা নিয়ে বরাক উপত্যকা থেকে ‘আকসা’ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন প্রতিবাদ জানায় এবং তখন খোদ শিক্ষা মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা তিনি দেখবেন। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর বোঝা গেল যে এই ব্যাপারটি কোন একজনের সিদ্ধান্ত নয় ,এটি গোটা সরকারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তাই তার কিছু করার ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন দিশপুরে যে সরকারই আসুক না কেন তাদের উগ্র জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা যে বদলায়না, এ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। ফ্রন্টের আরো দুই আহ্বায়ক ইকবাল নাসিম চৌধুরী ও দেবরাজ দাশগুপ্ত বলেন যে সরকারি সিদ্ধান্তে এটাই প্রমানিত যে বরাকের ছাত্রছাত্রীদের কোন মতামত থাকতে নেই।তারা বলেন এর আগেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারেও বরাকের কাউকে ডাকা হয়নি।এসব দেখেশুনে মনে হয় সরকার বরাককে আসামের অঙ্গ বলে মনেই করেননা। তাদের বক্তব্য – যদি তাই হয় তবে এভাবে অপমান করার চেয়ে বরাককে আসাম থেকে পৃথক করে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।

