পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: অসমের শৈল শহর হাফলঙের রাজপথ কিশোরী বা যুবতীদের জন্য এখন আর সুরক্ষিত নয়। সম্প্রতি শহরের প্রাণকেন্দ্রে সংঘটিত জনৈকা যুবতীর শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অথচ পুলিশ উপরোক্ত ইস্যুতে আজও অন্ধকারে। এক্ষেত্রে সাহসী যুবতী নিজে বেরিয়ে আসে এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সাহায্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। ততক্ষণে শহর জুড়ে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতার্থে বেশ কিছু দিন পাহাড়ের আনাচকানাচে একের পর এক অপরাধ জনিত ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে আসছিল। প্রশ্ন উঠছে যে এতদিন বিশেষ করে অসমের ডিমা হাসাও জেলায় মহিলা বা কিশোরী যুবতীরা সুরক্ষিত ছিল যদিও কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী যুবতী নিজের ভাষ্য তুলে ধরতে গিয়ে জানায় যে চলতি মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ গত শনিবার হাফলং এন এল দাওলাগুপু স্টেডিয়ামের কাছে কনভেন্ট রোড এলাকায় বিকেলের দিকে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার সময় জনৈক যুবক গাড়ি করে তাকে লক্ষ্য করছিল।
যুবকটি এক নম্বরপ্লেট হীন নীল রংয়ের গাড়িতে ছিল। তবে একটা সময় গাড়ি তার দিকে আসতে দেখে যুবতী গাড়িটিকে সাইড দিতে গিয়ে পথের পাশে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততই ওই লম্ফট যুবক যুবতিকে টার্গেট করছে।এভাবে বাস্তবে গাড়ির ভেতরে বসেই হাত বাড়িয়ে তার (পড়ুন যুবতীর) শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। ততক্ষণে যুবতী চিৎকার চেঁচামেচি করলে পাষন্ড যুবক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে জানা যায় গাড়ির ভেতরে বসে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকা যুবকের নাম পন্দেশ সেংইয়ুঙ।অবশ্য এই ঘটনার পর সাহসী যুবতী হাফলং সদর থানায় পন্দেশ সেংইয়ুঙের নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে এক এজাহার দাখিল করেন। যদিও পুলিশ অভিযানে নামে কিন্তু অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হাফলং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে পন্দেশ সেঙ্গইয়ং নামের ওই ব্যক্তি পলাতক রয়েছে যদিও তার নম্বর প্লেটহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী যুবতী ট্যুইট করে ওই দিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন এবং বিষয়টি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং পুলিশ সঞ্চালক প্রধান ভাষ্করজ্যোতি মহন্তের নজরে আনেন। এর পাশাপাশি অভিযুক্ত পন্দেশ সেঙ্গইয়ংকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এখন একাংশ যুবতী পন্দেশের কুকীর্তির কথা তুলে ধরছেন। এদিকে মঙ্গলবার হাফলং এন এল দাওলাগুপু স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জেলা সদরের একাধিক মহিলা সংগঠন এহেন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত পন্দেশ সেঙ্গইয়ং নামের লম্ফটকে গ্রেফতার করার দাবি জানান। মহিলা সংগঠনের কর্মকর্তারা শহরের সামগ্রিক আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। কারণ এর আগে এধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়নি।

