পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: আসামের ডিমা হাসাও জেলা বন ও পরিবেশ বিভাগের দ্বারা আয়োজন করা ফিটনেস ওয়াকে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যু হয়েছে ব্রিজেশ থাওসেন নামের ফরেস্টারের। ঘটনা শৈল শহর হাফলংয়ের। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ছয়টা নাগাদ এই ঘটনা সংঘটিত হয়। এদিন ফিটনেস ওয়াক হাফলং বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের নিকটবর্তী পেট্রোল পাম্পের কাছে যাওয়ার পরই ব্রিজেশ থাওসেন নামের ফরেস্টার হঠাৎ হাঁটা অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আচমকা এধরনের ঘটনায় সাতসকালেই দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। অবশ্য ফিটনেস ওয়াকে স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য রাখা অ্যাম্বুলেন্সে করেই ব্রিজেশকে হাফলং সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা ব্রিজেশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ডিমা হাসাও বন ও পরিবেশ দফতরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার তুহিন লাংথাসার সঙ্গে উপরোক্ত ঘটনা নিয়ে কথা বললে তিনি জানান ‘ আমি বর্তমানে উমরাংশুতে রয়েছি। তাই প্রকৃতার্থে কি হয়েছে বলা মুশকিল। তবে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সম্ভবতঃ হৃদরোগ বা স্ট্রোকে ব্রিজেশের মৃত্যু হয়েছে।
তথাপি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে।’ তিনি বলেন জেলার সবকটি রেঞ্জেই চলছে ফিটনেস ওয়াক। তবে হঠাৎ করে কি হয়ে গেলো। ‘ এদিকে ব্রিজেশের মৃত্যুতে গভীর শোক ব্যক্ত করেন ডিএফও তুহিন লাংথাসা। ফিটনেস ওয়াকে থাকা জনৈক রেঞ্জ অফিসার তথা প্রত্যক্ষদর্শী জানান যে সোয়া ছয়টা নাগাদ বোটানিক্যাল গার্ডেনের সম্মুখ থেকে বড় হাফলঙের ভিউ পয়েন্ট এবং সেখান থেকে ফিরে আসা।
মোট দূরত্ব সাত কিলোমিটার। দুই ঘন্টায় পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করতে হবে। তবে সবার সঙ্গে ব্রিজেশও সুস্থ শরীরে সামিল হয়। কিন্তু কয়েক মিনিট হাঁটার পর আচমকা পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তিনি জানান যে গত রবিবার থেকে বিভাগীয় তরফে তিন দিনের ফিটনেস ওয়াকের ব্যবস্থা করেছে। যাতে করে ফ্রন্টলাইন কর্মীরা নিজেদের শারিরীক ভাবে সতেজ রাখতে এগিয়ে আসে।
আজ ছিল দ্বিতীয় দিন। তবে সাতসকালেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। উল্লেখ্য, ডিমা হাসাও জেলার বন ও পরিবেশ বিভাগের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের শারীরিক ভাবে সক্রিয় করে রাখতে সম্প্রতি পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের তরফে এক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর উপরোক্ত নির্দেশের পরই জেলাজুড়ে বন বিভাগের ফিটনেস ওয়াক চলছে।

