আসাম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে হটানোর ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা।
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে হারিয়ে বিপুল ভোটে হারায়। এরপর অন্য রাজ্যে তৃণমূলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল প্রথম ছোট রাজ্য ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দলকে গোছাতে শুরু করে রাজ্যটিতে। সেখানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় সশরীর দলবল নিয়ে গিয়ে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ইতিমধ্যে ত্রিপুরার পৌর নির্বাচন সম্পন্ন হলে সেখানে তৃণমূল প্রার্থী দিলেও গোটা রাজ্যে মাত্র পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে জেতে। এরপর তৃণমূল ছুটে যায় আরেকটি ছোট রাজ্য গোয়ায়। সেখানের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে খালি হাতে ফিরতে হয়।
এবার তৃণমূল লক্ষ্য স্থির করেছে আসাম রাজ্য ঘিরে। এ লক্ষ্যে বুধবার আসামের রাজধানী গুয়াহাটির ঐতিহাসিক কামাখ্যা মন্দিরে পূজা দিয়ে সেখানে তাদের দলীয় সমর্থকদের নিয়ে এক বৈঠক করে। সংবাদ সম্মেলনও করে। সেই বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিষেক আসাম থেকে বিজেপিকে হটানোর ডাক দেন।
বুধবার অভিষেক বলেন, মানুষ আর এখন মোদিকে চাইছে না। চাইছে মোদিবিরোধী একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায়। মানুষকে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে লালিত হয়ে রাজ্যপাট থেকে বিজেপিকে হটাতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অভিষেক বলেন, বোঝাতে হবে বিজেপি একটি ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের মানুষ চায় না। তাই বিজেপিকে আসাম থেকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হটাতে লড়াই করতে হবে।
ভারতের অন্য রাজ্যের মতো আসামেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে রাজনীতিতে জোর আলোচনা আছে।
অভিষেক বলেন, ‘আমরা সিএএ মানছি না। এখানে সিএএ কার্যকর করা হবে না।’ তিনি বলেন, বিজেপি এই সিএএ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাম এবং বাংলায় দুই কথা বলছেন।
অভিষেক বলেন, ‘আমরা মাঠ ছাড়ব না। এ লড়াইতে আমাদের জিততে হবে। মোদিকে হটাতে হবে। তৃণমূলের ঝান্ডা ওড়াতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে আসামের পর মেঘালয়ের দিকে দলকে শক্তিশালী করার জন্য।’

