শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১১, ২০২৬

আসাম ভূখণ্ডে মিজো তথ্যফলক ভেঙেছিল প্রশাসন, করিমগঞ্জের জেলাশাসককে শো-কজ মিজোরামের

বিশু / সমীপ, করিমগঞ্জ (অসম): দিন পনেরো আগে করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র তথা রাতাবাড়ি থানার অন্তর্গত ভুবিরবন্দের আন্তঃরাজ্য সীমান্তে সিংলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে তৈরি ঘর গুঁড়িয়ে ফেলার পাশাপাশি মিজোরামের তরফে সংস্থাপিত এমজিএনরেগা প্রকল্পের এক তথ্যফলক ভেঙে ফেলেছিল জেলা প্রশাসন। তথ্যফলক কেন ভাঙা হয়েছে তা জানাতে গত ২৬ অক্টোবর করিমগঞ্জের জেলাশাসক আনবামুথান মুথুস্বামী পালা‌নিস্বামীকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছেন মিজোরামের মামিত জেলার মনরেগা প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার এইচডি লালপেকমাউইয়া।

প্রসঙ্গত, করিমগঞ্জের রাতাবাড়ি থানার অন্তর্গত ভুবিরবন্দে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে মিজো আগ্রাসন অব্যাহত। অসম ভূখণ্ডে মিজোরা ঘরবাড়ি বানানো ও জমি জবরদখলের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে অসমের করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দিন পনেরো আগে জেলাশাসক আনবামুথান মুথুস্বামী পালা‌নিস্বামী, পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার, ডিএফও জালনুর আলি সহ সরকারি পদস্থ আধিকারিকরা অভিযান চালিয়ে রাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ভুবিরবন্দ সীমান্তে সিংলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মিজোদের অবৈধভাবে জমি দখল করে সেখানে তৈরি ঘরবাড়ি ও মনরেগার একটি কাজের ফলক গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ওই কঠোর পদক্ষেপে দিনকয়েক পিছু হটেছিল মিজোরা। এবার নতুন করে অসমের জমি জবরদখলের অভিসন্ধিতে তত্‍পরতা শুরু করেছে মিজো দুর্বৃত্তরা। একইভাবে কাছাড় জেলার লায়লাপুর সীমান্তেও বেপরোয়াভাবে জমি জবরদখলে বেআইনি কার্যকলাপ জারি রেখেছে মিজোরা।

কিছুদিন আগে করিমগঞ্জের রাতাবাড়ি ও পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার মেদলি এবং কাছাড় জেলার লায়লাপুরে মিজো আগ্রাসন তীব্রতর হয়ে উঠেছিল। মিজোরাম সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে নির্মিত ঘর ও কাজের ফলক লাগানো হয়েছে। আইআর ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্প তৈরি করে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তের ওপাড়ে। ওই সব সশস্ত্র বাহিনীর ছত্রছায়ায় মিজো ছাত্র সংগঠন এমজেডপি ও ওয়াইএমপির নেতৃত্বে অসমের জমিতে মিজোরা ঘরবাড়ি তৈরি করছে। এ নিয়ে করিমগঞ্জ ও মিজোরামের মামিত জেলা প্রশাসন স্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠক বিফল হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল অসমে মিজো আগ্রাসন নিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। দিশপুর থেকে ভুবিরবন্দ সীমান্তে ছুটে আসেন রাজ্য গৃহ দফতরের কমিশনার-সচিব জ্ঞানেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত যুগ্মসচিব সত্যেন্দ্র গার্গের মধ্যস্থতায় শিলচরের অসম ও মিজোরামের গৃহ সচিবদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর কাছাড়ের লায়লাপুর সীমান্ত থেকে মিজো বাহিনী কিছুটা পিছু হটলেও রাতাবাড়ির ভুবিরবন্দ সীমান্তে অসমের জমিতে তৈরি মিজো বাহিনীর ক্যাম্প এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও মিজোরামে পণ্য সরবরাহ বহাল রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও সীমা বিবাদ নিষ্পত্তি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে ২৬ অক্টোবর মামিত জেলার মনরেগা প্রকল্পের জেলা প্রোগ্রাম অফিসার এইচডি লালপেকমাউইয়া করিমগঞ্জের (অসম) জেলাশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে ভেঙে ফেলা তথ্য ফলকটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। মিজোরামের থিংলুন গ্রামে জাওলনআম খণ্ড উন্নয়নের পক্ষে এমজিএনরেগা প্রকল্পে ব্রিক্স পোলিংয়ের কাজ করাতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে তথ্য ফলকটি লাগানো হয়েছিল বলে নোটিশে লেখা হয়েছে। জেলাশাসকের নেতৃত্বে করিমগঞ্জ প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালিত প্রকল্পের ফলকটি ভেঙে ফেলেছেন। যা সিসিএস (সিসিএ) নিয়ম মতে আইন বিরোধী কাজ বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। মিজো আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের জরিপকৃত মানচিত্র অনুযায়ী সীমা মানতে নারাজ।

এছাড়া অসমের জমিতে স্থাপিত তথ্য ফলক ভাঙাকে ঘিরে কেন্দ্রের মনরেগা প্রকল্পের দোহাই দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলার ফন্দিফিকির করছে মিজোরাম। বিষয়টি নিয়ে করিমগঞ্জের জেলাশাসকের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

এদিকে আন্তঃরাজ্য সীমা সমস্যা নিয়ে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনও সময় কাছাড়ের লায়লাপুরের ঘটনটার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন লোকজন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *