শিলচর, আসাম: সম্প্রতি বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আসাম রাজ্য সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে “অপরূপ আসাম “নামে একটি গাইডবুক প্রকাশিত হয়েছে, যাতে রাজ্যের স্বল্পখ্যাত অথচ আকর্ষনীয় পর্যটন স্থানগুলি বিশদ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এতে অসমের বরাক উপত্যকার কোন স্থানের উল্লেখ করা হয়নি। ভৌগোলিকভাবে আসামের সব জেলাকে এতে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, ডিমা হাসাও পর্যন্ত এসে এই তালিকাতে ইতি টানা হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় ফ্রন্টের আহ্বায়ক পার্থ দাস বলেন যে যেখানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে বরাকে এসে খাসপুর তথা ভুবনতীর্থের উন্নয়নের জন্য অনুদান বরাদ্দ করে গেলেন,সেখানে এই নতুন গাইডবুকে বরাক উপত্যকাকে সম্পূর্ণরূপে হয় ব্রাত্য রাখার ব্যাপারটি রহস্যজনক।
তিনি বলেন এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে -এটা ভাবার সঙ্গত কারণ রয়েছে। অন্যথা অসমের বরাকের তিন জেলায় সেরকম স্বল্পখ্যাত কোন পর্যটন কেন্দ্র নেই এটা হতে পারেনা। তিনি বলেন সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির, শনবিল সহ বরাকের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র সম্বন্ধে অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাসিন্দারাই সম্যক ওয়াকিবহাল নন এবং সেই অর্থে বরাকের সমস্ত পর্যটন স্থলই স্বল্পখ্যাত।
অথচ এসমস্ত স্থানই যথেষ্ট আকর্ষণীয় ও ঐতিহাসিক মাহাত্ম্যে উজ্জ্বল। পার্থবাবু আরো বলেন যে এই গাইডবুকটির উন্মোচনী অনুষ্ঠানে মূখ্যমন্ত্রী সাথে পর্যটন দপ্তরের মূখ্য আধিকারিক পবন বটঠাকুরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন পবন বটঠাকুর জেলাশাসক হিসেবে অনেকদিন কাজ করে গেছেন। তাই বরাকের ব্যাপার ও পর্যটনস্থলগুলির সম্বন্ধে তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তাই তিনিও কিভাবে বরাককে এই পুস্তিকা থেকে বাদ দিলেন তাও বোধগম্য হয়নি।
বিডিএফ আহ্বায়ক বলেন যে সরকার অবিলম্বে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিক।নতুবা এনিয়ে বরাকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে বাধ্য। বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।

