শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

আসাম সরকারের নামে ভুয়ো ফেসবুক পেজ বানানোয় প্রতারণা ও জালিয়াতির দায়ে গ্রেফতার দীপজ্যোতিকে, স্পষ্টীকরণ পুলিশের

গুয়াহাটি : অসম সরকারের নাম ভেঙে সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ফেসবুক পেজ তৈরি করে চূড়ান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র তথা শিবসাগর রাজবাড়ির বাসিন্দা দীপজ্যোতি গগৈকে।

দীপজ্যোতি গগৈ জনগণকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের ফটো পাশে সেঁটে অসম সরকারের নামে ফেসবুকে একটি পেজ খুলেছিলেন। ওই পেজে আইএফএসসি কোড সহ নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে রাজ্যের বন্যাপীড়িতদের সাহায্যের জন্য জনগণের কাছে আবেদন করেছেন দীপজ্যোতি। অসম সরকারের টাকার অভাব, উল্লেখ করে বন্যার দুর্যোগকালে জনগণকে সাহায্যের আবেদন করে চুড়ান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া দীপজ্যোতি।

গত সোমবার রাতে শিবসাগর রাজবাড়ির বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করার পর সোশাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন এক ছাত্রকে পুলিশ হয়রানি করছে বলে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।

আজ বুধবার শিবসাগর পুলিশের পদস্থ আধিকারিক এই ঘটনার স্পষ্টীকরণ দিতে গিয়ে উল্লিখিত কথাগুলো জানান। দীপজ্যোতি গগৈকে গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট ও কারণ তুলে ধরে পুলিশের পদস্থ অফিসার জানান, ‘রাষ্ট্রক এখন মুকুলি চিঠি’ (রাষ্ট্রকে একটি খোলা চিঠি) শীর্ষক আবৃত্তি পাঠ সংবলিত ভিডিও ফুটেজ আপলোড করার দায়ে দীপজ্যোতিকে আটক করা হয়নি। দীপজ্যোতি ন্যাস্ত স্বার্থ ও বেআইনি লাভের উদ্দেশ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে অসম সরকার ও জনগণের সাথে চূড়ান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগের গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে ১১/২০২০ নম্বরে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৩৪ ধারা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৬৬সি ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এই মামলার আসামি দীপজ্যোতির বাড়ি শিবসাগর জেলায় থাকার সুবাদে তাকে আটক করতে গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ সহযোগিতা চেয়েছিল। সেই অনুসারে শিবসাগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারক দীপজ্যোতিকে আটক করে আট ঘণ্টার মধ্যেই গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে সমঝে দিয়েছে শিবসাগর পুলিশ। ডিমৌ থানায় তাকে আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগ এভাবেই খারিজ করেছে শিবসাগর জেলা পুলিশ প্রশাসন। এছাড়া দীপজ্যোতিকে আটক করার কারণ সম্পর্কেও সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হয়েছিল। পরে ডিমৌ থানায় নিয়ে গ্রেফতারের পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আট ঘণ্টার মধ্যে তাকে গুয়াহাটির ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত দীপজ্যোতি গগৈকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দীপজ্যোতির জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলা আড়াল করতে সোশাল মিডিয়ায় অযথা গেল গেল রব তুলে পুলিশের বদনাম করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে খেদ ব্যক্ত করা হয়েছে শিবসাগর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। বিশু / এসকেডি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *