।। রিটেন বাই বেঙ্গল টাইগার ।।
‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার`স ম্যান’ নামে সম্প্রতি আল-জাজিরা টেলিভিশনের একটি ডকুমেন্টারি ভাইরাল হয়েছে। মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাপ্রধান ও তার ভাইদের নানা অপকর্ম নিয়ে এই ডকুমেন্টারিটি তৈরী করা হয়েছে। এই ডকুমেন্টারির প্রতিবাদে মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের লোকেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘উই অল আর শেখ হাসিনা`স ম্যান’ নামে প্রোপিক ফ্রেম বানিয়ে ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগ করেন তাদের বেশির ভাগই যেহেতু অশিক্ষিত, মূর্খ। সঙ্গত কারণেই তাদের শিক্ষিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইংরেজিতে যা লেখা হয় তার বাংলা সব সময় এক না। এটুকু না বুঝলে ইংরেজিতে কোন কিছু লিখা ঠিক না। আপনারা যারা ‘উই অল আর শেখ হাসিনা’স ম্যান’ লিখছেন, এর অর্থ কি জেনে বুঝে লিখেছেন? একটা কাজ করেন, লেনার্ড কোহেন এর “আই অ্যাম ইউর ম্যান” গানটা শোনেন বা লিরিক পড়েন। আরো ভালো হয় ‘ হোয়াম ‘ এর জর্জ মাইকেল যে “আই অ্যাম ইউর ম্যান” গানটা গেয়েছিলেন, সেটা শোনেন বা লিরিক পড়েন। গান শোনা, লিরিক পড়া শেষ হয়েছে? এবার শোনেন, এই “আই অ্যাম ইউর ম্যান” হলো একটা ভাববাচ্য ধরনের কথা। মূলত: একজন পুরুষ যখন একজন নারীকে পছন্দ করেন, সেই নারীর পূর্ব কোন খারাপ অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে সান্তনা দিয়ে পুরুষেরা “আই অ্যাম ইউর ম্যান” এই কথাটা বলেন। এবার বুঝেছেন? আপনারা এই প্রোপিক ফ্রেম দিয়ে ইংরেজি ভাষাকে ধর্ষন করেছেন সেই সাথে আপনাদের প্রাণ প্রিয় শেখ হাসিনাকেও কার্যত অসম্মান করেছেন। আপনাদের মত আপনাদের প্রয়াত এ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম সাহেবেরও একই সমস্যা ছিলো। উনাকে কোর্টে একবার ড. কামাল হোসেন রাগ করে বলেছিলেন “ইউ আর এন ইন্টেলেকচুয়াল প্রস্টিটিউট”। এই ইন্টেলেকচুয়াল প্রস্টিটিউট কথাটার অর্থ হলো বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ যিনি নিজের বিবেক স্বেচ্ছায় বন্ধক রাখেন। অন্য ভাষায় যাকে বলে পা চাটা জ্ঞানী মানুষ। মাহবুবে আলম সাহেব না বুঝে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সামনে ডুকরে কেঁদে ওঠে বলেছিলেন, ইওর অনার, ড. কামাল হোসেন আপনার সামনে আমাকে প্রস্টিটিউট বলেছেন।
যাই হোক, শেখ হাসিনার গায়ে গু লেগে আছে, তার গায়ের গু-মুত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে- আল জাজিরা এটা পরিস্কার দেখিয়ে দিয়েছে। কোথায় আল জাজিরাকে ধন্যবাদ দিয়ে চুপচাপ পরিস্কার করে ফেলবেন তা না, উল্টো সেই গু যে কত উপাদেয়, মুত যে কত ভাল, কত সঠিক, কত সুগন্ধময় বা সেগুলো যে আসলে গু-মুতই নয় মেশকে আম্বর তা প্রমাণের প্রাণান্ত পরিশ্রম ও প্রতিযোগিতা করে আপনারা শেখ হাসিনার এই ম্যানেরা গু-মুতের চাইতেও বেশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন! গু-মুত বেশি বেশি নাড়ানাড়ি করলে আরো বেশি বেশি গন্ধ বের হবেই। এটাই গু-মুতের ধর্ম। আল জাজিরা এত বড় একটা কাজ করেছেন, প্রমাণ ছাড়া করেছেন? মামলা মোকাদ্দমার কথা মাথায় রেখে তারা সমস্ত তথ্য প্রমাণ হাতে নিয়েই করেছেন। এর পেছনে তারা প্রায় দুই বছর সময় ব্যয় করেছেন। তারা এটা প্রচার করার আগে শেখ হাসিনা, আজিজসহ প্রত্যেক অভিযুক্তকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। আজিজ সেই চিঠির কোন উত্তর না দিয়ে আমেরিকায় চলে গেছেন। এখন আল জাজিরা এটা প্রচার করার পর আপনারা সত্যকে অস্বীকার করে বড় বড় কথা বলছেন! লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে মামলার কথা বলছেন, মামলা করে আল জাজিরার কিছু করতে পারবেন? আল জাজিরা কি বিএনপি-জামায়াত যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানিক, কুদ্দুসদের মত গৃহ পালিত স্টুপিড বিচারপতিদের দিয়ে মন গড়া রায় দেওয়াবেন? তা না হলে আর্ন্তজাতিক আদালতে আপনারা কীভাবে আল জাজিরার রিপোর্টটিকে, রেকর্ডেড কথা ও ভিডিওকে ভুয়া বলবেন? বিগ্রেডিয়ার আব্দুল্লাহ আমান আজমীসহ বাংলাদেশে বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষ গুম খুন হয়েছেন- এগুলো কিভাবে অস্বীকার করবেন? আজিজের পরিবারে পলাতক, খুনি এবং সন্ত্রাসী, বিচারে সাজা প্রাপ্ত দাগি আসামি সত্বেও তাকে কার স্বার্থে, কোন স্বার্থে সেনাপ্রধান করেছেন? ২০১৪ সালে নির্বাচন হয় বিজিবি দিয়ে, ২০১৮ সালের নির্বাচন হয় সেনাবাহিনী দিয়ে। ২০১৪ সালে আজিজ বিজিবি প্রধান এবং ২০১৮ সালে আজিজ সেনাপ্রধান হন। আসলে বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনী নয় নির্বাচন হয় আজিজ এর তত্বাবধানে – এগুলো অস্বীকার করতে পারবেন? শুধুমাত্র আজিজকে সেনাপ্রধান বানানোর জন্য আজিজের ছোট ভাই মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জোসেফকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছেন। সেনাপ্রধান হয়ে আজিজ ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে মিডনাইট ইলেকশন করেছেন- এগুলোকে মিথ্যা বলবেন? আজিজের আরেক ভাই শেখ হাসিনার প্রাক্তন বডিগার্ড খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরার আসামি হারিস আহমেদ সেনাপ্রধান ও তার স্টাফদের সহযোগিতায় নিজের নাম ধাম, ন্যাশনাল আইডি পাল্টিয়ে, জাল পাসপোর্ট নিয়ে বুদাপেস্টে বসে কমিশন বাণিজ্য আর মানি লন্ডারিং করছেন, শুধু তাই না খুনের ফেরার আসামি হয়েও তিনি এসএসএফ, পুলিশ, গোয়েন্দা ও রাস্ট্রপতির উপস্থিতিতে সেনাপ্রধানের ছেলের বিয়েতে এটেন্ড করেছেন- আল জাজিরার এই তথ্যগুলোকে কি মিথ্যে বলবেন? শেখ হাসিনার নিযুক্ত হাঙ্গেরির কনসাল জেনারেল অস্ত্র ব্যবসায়ী নিয়ের্জাস আম্ব্রুস জেনারেল আজিজের ভাই পাসপোর্ট জাল করে মোহাম্মাদ হাসান পরিচয় নেয়া হারিসের জন্য হাঙ্গেরি সরকারের কাছে হাঙ্গেরিতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার আবেদন করেছেন এবং সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, মোহাম্মাদ হাসান ওরফে হারিস যদি হাঙ্গেরিতে আসেন তাহলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনেক কাজ হাঙ্গেরি সরকার পাবেন- এরপরেও হারিসের সাথে শেখ হাসিনার কোন সম্পর্ক নাই বলবেন? অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা সংস্থা ডিজিডিপি ফেরার আসামি হারিস আহমেদের মধ্যস্থতায় হাঙ্গেরি থেকে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য ইসরাইলি স্পাইওয়্যার কিনেছেন, সেখানে ঐ সংস্থার প্রধানের সরাসরি সিল এবং সিগনেচার আছে। কাজেই শেখ হাসিনার অনুমোদন ছাড়া দেশের মিলিয়ন ডলার হাঙ্গেরি চলে গেছে – এগুলো মানুষকে বিশ্বাস করতে বলবেন? আল জাজিরার মত একটা স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া হাতে প্রমাণাদি না রেখে যে প্রতিবেদনটি প্রচার করেনি সেটা একটা শিশুও বুঝে। কাজেই বিএনপি, জামায়াত, তারেক রহমান, লন্ডন, ডেভিড বার্গম্যান, ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- এইসব ত্যানা না প্যাচিয়ে আল জাজিরা যে তথ্যগুলো দিয়েছে সেগুলোর কোনটা মিথ্যা- পারলে ফ্যাক্ট দিয়ে প্রমাণ করেন।
ইসরায়েল হলো এমন একটা দেশ বাংলাদেশ যাকে স্বীকৃতি দেয়নি। যে দেশের সাথে বাংলাদেশের কোন ব্যবসা বাণিজ্য নেই। ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই। আপনি সেই ইসরায়েল থেকে বিরোধী দল ও বিরোধী মতকে দমন করার জন্য স্পাইওয়্যার কিনেছেন। আল জাজিরার ডকুমেন্টারিতে সেটা এক্সপোজড হওয়ার পর প্রথমে আপনারা নিজেরা তারপর সেনাসদরকে দিয়ে আপনাদের ঠিকাদারি মার্কা একটা বিবৃতি দেওয়াইছেন। যে আইএসপিআরের একটা বিবৃতি জনগণ এতদিন চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছেন, সেই আইএসপিআরের বক্তব্যে মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন। গত ১২ বছরে আইএসপিআরকে আপনারা পচিয়ে ফেলেছেন। গত ১২ বছরে আপনারা সশস্ত্রবাহিনীর এমন অবস্থা করেছেন যে, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়েছেন। জনগণ এখন সশস্ত্রবাহিনীকে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। লজ্জা হয় আমাদের জোয়ানরা প্রতিদিন জনগণের টাকায় ট্রেনিং নিয়ে একজন চিহ্নিত ক্রিমিনালকে স্যালুট দিচ্ছেন। গত ১২ বছরে আপনারা সশস্ত্রবাহিনীর এই হাল করেছেন। আপনারা প্রথমে বলেছেন, বাংলাদেশ হাঙ্গেরি থেকে কোন গোয়েন্দা নজরদারি যন্ত্রপাতি কিনেনি। আপনাদের এই দাবিটা হয়তো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারত কারণ, আল জাজিরার কাছে শুধুমাত্র হাঙ্গেরি থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্রপাতি কেনার চুক্তিপত্র ছিল, সরবরাহের কোন ডকুমেন্ট ছিলনা। সুতরাং আপনারা অস্বীকার করলে আল জাজিরার আর কিছু করার থাকতো না। কিন্তু পরবর্তীতে সেনাসদরের বিবৃতিতে আপনারা স্বীকার করে নিয়েছেন যে আপনারা হাঙ্গেরি থেকে গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্রপাতি কিনেছেন। পৃথিবীতে দুইশোর উপরে দেশ আছে, ইসরায়েলের বন্ধু ইউরোপীয় দেশই আছে ত্রিশের উপর। এত এত দেশ ছেড়ে কিনেছেন হাঙ্গেরি থেকে! আবার এটাকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে বলেছেন, গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে জাতিসংঘের পীস কিপিং মিশনের জন্যে। তো এখন জাতিসংঘ এখানে ইনভলভড হয়েছেন। কারণ আপনারা জাতিসংঘকে ইনভলভ করে মিথ্যা বলেছেন। তাও বলছেন হাঙ্গেরির বানানো – যেখানে সেটা ক্লিয়ারলি ইসরায়েলের বানানো লেখা আছে এবং সোজা বাংলায় দুই নম্বর রাস্তায় কেনা হয়েছে। কাজেই বাধ্য হয়েই জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক কে মুখ খুলতে হয়েছে। তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে হয়েছে- আল-জাজিরার অনুসন্ধানে বাংলাদেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি সম্পর্কে তারা অবহিত আছে। দুর্নীতির অভিযোগ একটি গুরুতর বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত। সেই সাথে তিনি আরো জানিয়ে দিয়েছেন- আল জাজিরার ডকুমেন্টারি এবং বাংলাদেশের সেনাসদরের বিবৃতিতে যে ধরনের ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের কথা উঠে এসেছে, সে ধরনের কোনো যন্ত্র ব্যবহারের কথা জাতিসংঘের চুক্তিতে নেই। অর্থাৎ আপনারা ধরা পড়ে গেছেন। সোজা কথায়- সেনাসদর মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের যে কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশুও বলতে পারবে এই গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্রপাতি রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেনাসদর যদি এই কথাটাও বলতেন, তাহলে মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের গায়ে কিছুটা কলঙ্ক লাগলেও একটা শেষ রক্ষা হয়তো করতে পারতেন। কিন্তু সেটাও না করে সেনাসদর তাদের বিবৃতিতে বলেছেন- হাঙ্গেরি থেকে কেনা এই গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্রপাতি তারা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহার করছেন। একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া বিবৃতি পুরো দেশকে কেমন ঝামেলায় ফেলে দিতে পারে সেটা দেশবাসী সেনাসদরের বিবৃতির প্রতিবাদে জাতিসংঘের বিবৃতিতে লক্ষ্য করছেন। “নজরদারির সরঞ্জাম আমরা জাতিসংঘ মিশনে ব্যবহারের জন্য কিনেছি।” – এটা বলার সময়ে মনে রাখা উচিৎ ছিলো এই বিবৃতিটা জাতিসংঘ দেখবে আর অবশ্যই জানতে চাইবে জাতিসংঘ তোমাদের কাছে কবে কোথায় এই সরঞ্জাম ব্যবহারের রিকুইজিশন দিয়েছেন? জাতিসংঘ মিশনের কোন ভবিষ্যৎ আলোচনায় সেনা সদরের বিবৃতির বিষয়ে অবশ্যই প্রশ্ন আসবে। জাতিসংঘকে জড়িয়ে এত বড় মিথ্যা বলার আগে জাতিসংঘ পীস মিশনই যে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন- এই কথাটা একবার ভেবেছেন? আপনারা শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করার রাস্তাটিও হুমকির মুখে ফেলেছেন। ইতিমধ্যে সাতটি প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠন জাতিসংঘকে শান্তি মিশনে বাংলাদেশি সৈন্য নিয়োগের বিষয়টি পূনঃর্বিবেচনা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। আইএসপিআরের উচিত ছিল ডকুমেন্টারিতে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা নিয়ে দেশের আপামর জনগণ উদ্বিগ্ন, সেসব অভিযোগের টু দ্যা পয়েন্ট জবাব দিয়ে সবার উদ্বেগ নিরসন করা। অথচ সেনাসদর সেদিকে একেবারেই না গিয়ে ডকুমেন্টারি প্রস্তুতের সাথে জড়িতদের চরিত্রে কালি লাগানোর চেষ্টা করেছেন? ডকুমেন্টারি তৈরির সাথে যারা জড়িত তাদের চরিত্রে কালি লাগালেই কী অভিযোগগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে ভেবেছেন? তাই যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। অন্যের গায়ে কালি লাগিয়ে পরোক্ষভাবে নিজেকে সফেদ দেখানোর কৌশল অনুসরণ করতে গিয়ে আপনারা নিজেদেরকেই আরো বেশি করে সন্দেহের কাতারে ফেলে দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য রাষ্ট্রের কাছে, সংবিধানের কাছে; সরকারের কাছে নয়- কথাটা আপনারা ভুলে গেছেন। রাজনৈতিক সরকারকে রক্ষার দায়ও সশস্ত্র বাহিনীর নয়। সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রকে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে, রাষ্ট্রের নাগরিককে রক্ষা করবে। রাজনৈতিক সরকারকে এবং তার যাবতীয় দুষ্কর্ম থেকে সুরক্ষা দেয়ার দায় সশস্ত্র বাহিনীর নাই। রাজনৈতিক দলের সরকার দুষ্কর্ম বা সুকর্ম যাই করুক এর দায় ও কৃতিত্বের পুরোটাই ঐ দল ও সরকারের। আল জাজিরার ডকুমেন্টারি বর্তমান সেনাপ্রধান ও তার ভাইদের নানা অপকর্ম নিয়ে করা, সেই সাথে তাদের সাথে সরকার প্রধানের কী ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিলো, কীভাবে সেনাপ্রধানের অপরাধী ভাইয়েরা সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কেকে এক্সপ্লয়েট করছে এসব নিয়ে করা। আল জাজিরার ডকুমেন্টারি তো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে করা নয়। সশস্ত্রবাহিনীর অগৌরব, আমাদেরও অগৌরব। সশস্ত্রবাহিনীর গায়ে কালি লাগলে আমাদের গায়ে কালি লাগে, হৃদয়ও রক্তাক্ত হয়। কাজেই অবৈধ সরকারের কাছে আনুগত্য দেখাইতে গিয়ে নিজেদের গায়ে এই অগৌরবের কালি লাগতে দিয়েন না, প্লিজ। আজিজের যে যোগ্যতা সেই যোগ্যতায় বড়জোর তিনি একজন লে: কর্ণেল হতে পারতেন অথচ তাকে চার তারকা জেনারেল বানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, বিজিবি, র্যা ব, পুলিশ, সেনা বাহিনীসহ রাষ্টীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনা বেছে বেছে তার মত অশিক্ষিত, দু:শ্চরিত্রের লোকজনকে বসিয়েছেন। আল জাজিরা তাদের সেই চরিত্রই উম্মোচন করেছেন। আল জাজিরা খুব সুন্দরভাবে একটা একটা করে তথ্য প্রমাণসহ ভিজ্যুয়ালি সব দেখিয়েছেন। আল জাজিরা কোন ব্যক্তি বা দলের পক্ষে নয়। আল জাজিরা বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেছেন, আল জাজিরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। আল জাজিরা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে কাজ করেছেন। আল জাজিরা তাদের ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মাধ্যমে পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশের বড় বড় দু:শ্চরিত্র, দুর্নীতিবাজকে নাকানি চুবানি খাইয়েছেন। বিবিসি, সিএনএন যা পারেনি, আল জাজিরা তা করে দেখিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে আল জাজিরা খুবই শক্তিশালি একটা গণমাধ্যম। কাজেই আল জাজিরা যেসব বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সে সব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়া শুধু রিপোর্ট প্রত্যাখান করলেই তা মিথ্যা হয়ে যায় না। আজিজের যে ক্যারিয়ার গ্রাফ, তিনি মেজর থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে, আর্মির একটা ট্রেনিংয়ের সময় তিনি কিছু যন্ত্রপাতি হারিয়েছেন, সেটা নিয়েও তার বিরুদ্ধে এনকায়ারি হয়েছিলো, সেখানে তিনি চাকরিও হারাতে পারতেন। এই ধরনের একজন অফিসারকে বিজিবি প্রধান, পরবর্তীতে সেনাপ্রধান করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে কি তার চেয়ে যোগ্য লোকের অভাব আছে? শেখ হাসিনার চেয়ে ভালোভাবে দেশ চালাতে দেশে এরকম অন্তত ১০ হাজার লোক আছে। কাজেই ব্যক্তি বিশেষের অপকর্মের দায় সেনাসদর নিয়ে সেনাসদর দেশের জনগণকে চরমভাবে হতাশ করেছেন এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।
আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর মুজা বাবু, শ্যামল দত্ত, নাইমুলদের সরকার দলীয় মিডিয়াগুলো সংঘবদ্ধ ভাবে আল জাজিরার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে তর্ক নয়, বরং আল জাজিরা কতো খারাপ তা নিয়ে তারা তর্ক করছেন। আল জাজিরা কতো দেশে দেখানো হয় না, কত দেশে নিষিদ্ধ, সামি মাদকাসক্তির কারণে বহিষ্কৃত ক্যাডেট কিনা, ডেভিড বার্গম্যান, তাসনীম খলিল মুলধারার সাংবাদিক কিনা, ইত্যাদি নিয়ে কথা বলছেন। হাউ স্টুপিড! – এগুলোতে দেশের জনগণের কী কিছু আসে যায়? উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে তো সত্য উপেক্ষা করা যাবে না। সত্যকে অস্বীকার করলেই সত্য মিথ্যা হয়ে যায় না। সত্য কখনো গোপন থাকে না। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, হাঙ্গেরি আমাদের কাছে পাঁচ হাজার ডোজ টিকা চেয়েছে। অথচ হাঙ্গেরি বলছে, আমরা চাইনি বাংলাদেশই ভ্যাকসিন দিতে চেয়েছে এবং সেই ভ্যাকসিন আমরা নিবো না বলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে হাঙ্গেরি কেনো রে ভাই? সেনাপ্রধানের ভাই শেখ হাসিনার প্রাক্তন বডিগার্ড ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড হারিস আহমেদ ওখানে থাকে এইজন্য রে ভাই? দেশের টাকা পাচার, ব্যবসা বাণিজ্য, লুটপাট, কমিশনসহ হারিস আহমেদের কোন কুকর্মে যেনো হাঙ্গেরি সরকার বাধা না দেয় এই জন্য রে ভাই? হাঙ্গেরি সরকারকে খুশি রাখার জন্য রে ভাই, নাকি হাঙ্গেরি সরকারের মাধ্যমে গোপনে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য ভাই? এই দেশের নাম তো বাংলাদেশের নব্বই ভাগ মানুষই কোনদিন শোনে নাই রে ভাই! এইসব নিয়ে মুজা বাবু, শ্যামল দত্ত, নাইমুলদের কোন কথা নাই কেনো রে ভাই? মুজা বাবু, শ্যামল দত্ত, নাইমুলরা শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সমার্থক করে ফেলেছেন। অথচ ব্যক্তি শেখ হাসিনা, আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা আর রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রত্যেকটাই আলাদা বিষয়। রাষ্ট্র আর সরকারের তফাৎ না বুঝলে, রাষ্ট্র আর সরকার একাকার হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে রাষ্ট্র নাই হয়ে গেছে। রিপাবলিক আর পাবলিকের রাষ্ট্র নাই, কোন একটা রাজার রাজত্বে পর্যবসিত হয়েছে। গত ১২ বছরে রাষ্ট্রের প্রতিটা প্রতিষ্ঠান এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যে, গোটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাই এখন আওয়ামী লীগের কার্যালয় হয়ে গেছে। যার মাশুল আজ দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে। মুজা বাবুরা এদিকে জনগণের বিপক্ষে যা করার করছে, অন্যদিকে কোনরুপ তদন্ত ছাড়াই আল জাজিরার প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়ে দেশের ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক (পড়ুন দালাল) মাদার অব মাফিয়ার সরকারের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। আল জাজিরা চ্যানেল নাকি দেশের (পড়েন শেখ হাসিনার) ভাবমূর্তি নষ্ট করতেছেন! সামান্য কার্টুন আঁকার দায়ে নির্দোষ কার্টুনিষ্ট ‘কিশোর’ গত ২৭৬ দিন ধরে কারাগারে পরে আছেন অথচ শেখ হাসিনা মাফিয়া সর্দার,আল জাজিরার কল্যাণে এটা জানার পরেও নিজেদের শয়তানি আর ধান্ধাবাজিকে আড়ালে রাখার জন্য শেখ হাসিনার নামে এরা ঝান্ডা উড়াইতেছেন। দেশটা এই আওয়ামী সন্ত্রাসী আমলে এমন একটা অবস্থায় এসে পৌছেছে যে, খারাপ কাজ তারা করবে, অন্যায় কাজ তারা করবে কিন্তু কোন খারাপ কাজকে খারাপ কাজ বলা যাবে না। যে খারাপ কাজটি করছে তাকেও খারাপ বলা যাবে না। আপনি যখন মাফিয়াতন্ত্রের সকল আলামত সুস্পষ্ট হওয়ার পরও দেশের থেকে দল ও ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে এদের মত কিছু মানুষকে বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখবেন, তখন বুঝবেন তারা নষ্ট হয়ে গেছেন। ক্ষুদ্র খুদ কুঁড়োর আশায় তারা নষ্ট-ভ্রষ্ট মানুষদের পা-চাটছেন।
আল জাজিরার ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার`স ম্যান’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্যে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের জনগণ করে জাগবেন জানিনা। তবে আপনারা যারা সেনাপ্রধানের অবৈধ নিয়োগ, তাঁর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সহোদরের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্তির সাথে তথাকথিত নৈশ ভোটের নির্বাচনে শেখ হাসিনার স্বঘোষিত বিজয়ের বিষয়টি জেনেও এবং শেখ হাসিনা অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য আমাদের গর্বের সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের দ্বারপান্তে নিয়ে যাচ্ছে জেনেও ‘উই অল আর শেখ হাসিনা’স ম্যান’ বলে সব ঢাকতে চাইছেন তারা আসলে দেশের ভালো না বরং শেখ পরিবারের কাজের লোক, গোলাম বা চাকরের ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু এটা শুধু শেখ হাসিনার দেশ না, এটা আপনাদের নিজেরও দেশ। আপনার দেশকে মাফিয়ারা মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করছে অথচ আপনারা মাদার অব মাফিয়াকে ডিফেন্ড করছেন! কতদিন আপনারা এইসব মাফিয়াদের সেবা করবেন? আর কতদিন? কতদিন আপনারা এইসব মাফিয়াদের নিজেদের নেতা মনে করবেন? আপনারা কি নিজেদের এইসব চোরদের চাইতেও ছোটো মনে করেন? আর কতদিন আপনারা এই চোরদের সার্ভ করবেন? আপনারা আর কতদিন এভাবে চোখ বন্ধ রাখবেন? আপনারা যারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করছেন যে, আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটির অকাট্য প্রামাণ্য তথ্যগুলোও মিথ্যা, তাঁদের মগজ সম্পূর্ণই পঁচিয়ে-ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম বা কণাসম কমনসেন্স এবং বিবেকবোধটুকু যাঁদের আছে–তাঁরা এই ডকুমেন্টারিটি দেখে খানিকটা হলেও কষ্ট পাবেন, ভাববেন, সলজ্জ হবেন, এবং উচ্চকন্ঠ হবেন। মনে রাখবেন শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা হত্যা করেছিলেন তারাও কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানেরই লোক ছিলেন।

