শিরোনাম
শনি. জানু ৩১, ২০২৬

“উঠো বিহারি করো তৈয়ারি”, বন্দি লালুপ্রসাদের হাস্যরস শক্তিশেল আছড়ে পড়ছে

প্রসেনজিত্‍ চৌধুরী: চমকপ্রদ ঘটনা লালুপ্রসাদ নেই। দলীয় পোস্টার, হোর্ডিং, ব্যানারে দেখাই যাচ্ছে না। রাজদ (রাষ্ট্রীয় জনতা দল) নেতাদের মুখেও আসছেন না বিহারের যাদবকুলপতি। যদিও। প্রতিপক্ষ এনডিএ শিবির এখনও তাঁকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

গত চার দশক দুরন্ত উপস্থিতির পর এবারই লালুবিহীন বিধানসভার ভোট হচ্ছে বিহারে। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি (চারাঘোটালা) মামলায় ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বন্দি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রিমস হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন বর্ষীয়ান বিহারি নেতা। তবে টুইটে খুব সক্রিয়। ৪৩ বছর কম নয়।

১৯৭৭ সাল অর্থাত্‍ জরুরি অবস্থার পর দেশে প্রথম অ-কংগ্রেসি জনতা সরকারের সময়ে উল্কার গতিতে উত্থান লালুপ্রসাদের। ২০২০ নির্বাচনে অশরীরী হাততালি দিয়ে চলেছেন লালুপ্রসাদ। বিহার বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে রঙিন ‘লালুজি’ বাচনে। ইতিমধ্যে একটি শক্তিশেল ছুঁড়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রাঁচি থেকে পাটনা হয়ে দিল্লি- তামাম ভারতের রাজনীতি এতেই মুগ্ধ। বিহারিবাবু লালুপ্রসাদ যাদবের মজাদার উক্তি ‘উঠো বিহারি কর তৈয়ারি’ (জাগো বিহারি, প্রস্তুত হও) এখন সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই লালুপ্রসাদ তাঁর আনোখা আন্দাজে গ্রাম্য ভাষায় টুইট করেন। তখনও এনডিএ ও মহাজোট কোনও শিবিরেই আড় ভাঙেনি। এর মাঝেই লালুপ্রসাদের উক্তি ভাইরাল হয়ে যায়।

‘अफसर राज खत्म होगा
उठो बिहारी, करो तैयारी…
जनता का शासन अबकी बारी’
— Lalu Prasad Yadav
(@laluprasadrjd) September 25, 2020

পাটনার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, রাঁচিতে বন্দি থাকলেও আরজেডির প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর অনুমতি ছাড়া হচ্ছে না।

সকাল থেকে রাত রাঁচির রিমস হাসপাতালের বিশেষ কেবিন থেকে বিহারকে দেখে চলেছেন আদবানী-মোদীর ‘শত্রু’। বিহারে এনডিএ বিরোধী মহাজোটের আসন বণ্টনে তাঁর সূত্র মেনে নিয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস ও বামদলগুলি( সিপিআইএম-এল, সিপিআই, সিপিআইএম)।

মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী লালু পুত্র তেজস্বী যাদব। গত বিধানসভা নির্বাচনে আরজেজি ও জেডিইউ জোট করে বিহার দখল করেছিল। তখন এনডিএ ও মোদীর বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছিলেন নীতীশকুমার। যোগ্য সঙ্গী ছিলেন লালুপ্রসাদ। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয় তেজস্বীকে। সবই ছিল লালুপ্রসাদের পরিকল্পনা।

সেই জোট ছেড়ে নীতীশ আবার এনডিএ ফিরতেই বিহারের ক্ষমতায় ঢুকে পড়ে বিজেপি। উপমুখ্যমন্ত্রী হন সুশীল মোদী। আর পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় হাজতে ঢুকতে হয় লালুপ্রসাদকে। এরপর রাচি সংশোধনাগার বা রিমস হাসপাতালের কেবিনই হয়েছে লালুপ্রসাদের ‘ওয়াররুম’। সেখান থেকেই তিনি লড়ে চলেছেন।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে অতি সক্রিয় ছিলেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বিরোধী মহাজোটে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, কংগ্রেস ও আরজেডিকে এনে বাজিমাত করেছেন। ঝাড়খণ্ড এখন অ-বিজেপি শাসিত রাজ্য। লালুর আশীর্বাদ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন হেমন্ত সোরেন।

তাঁর পিতা শিবু সোরেনও পুরনো তিক্ততা ভুলে লালুপ্রসাদের কথায় সায় দেন। বিহার নির্বাচনে সেই লালুপ্রসাদ ফের সক্রিয়। রাঁচি থেকেই ওয়াররুম চালাচ্ছেন। সেনাপতিরা অবশ্য মাঠে ময়দানে। আর নিজস্ব হাস্যরসাত্মক উক্তি দিয়ে নির্বাচন জমিয়ে দিচ্ছেন যদুবংশজাত বিহারিবাবু।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *