২০১১ সালের ঘটনার আবার কি পুনরাবৃত্তি হবে ? এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের উচ্ছ্বাসের আর শেষ নেই। কারণ এই সালেই পুরীর মন্দিরের উল্টোদিক থেকে পাওয়া গিয়েছিল বিস্তর গুপ্তধন। ২০২১ এর এপ্রিল মাসে ৪৫ টি রুপোর বাট পাওয়া যায়, যার ওজন ছিল ৩৫ কেজি। পুনরায় জোরকদমে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সামনের দিকে গুপ্তধনের সন্ধানে শুরু হলো খননকার্য। পুরীর কালেক্টর ও সাব কালেক্টর এবং পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই খননকার্য চালাচ্ছে। নারায়ণ রামানুজের দায়িত্বে রয়েছে মন্দিরের উল্টোদিকের ইমার মঠ। তিনি গুপ্তধনের সন্ধান চালানোর জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে চিঠি লিখেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি তরফ থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে।
২০১১ তেও ইমার মঠের মেরামতের কাজ করতে গিয়ে দুজন শ্রমিক ৩০ কেজি ওজনের দুটি রুপোর বাট পেয়েছিলেন। তারপর থেকেই সেখানে শুরু হয় খননকার্য, উদ্ধার করা হয় ১৮ টন রুপো। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হলো পুরীর মন্দিরের আশেপাশে কেন এত গুপ্তধন রয়েছে ? এর কারণ হিসেবে প্রচলিত রয়েছে নানান কাহিনি।
• ১৯৬৬ সালে উড়িষ্যার দুর্ভিক্ষের সময় বহু মানুষ মঠ থেকে খাবার সংগ্রহ করত এবং তার পরিবর্তে বহু মূল্যবান ধাতু দিয়ে যেত।
• ব্রিটিশরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সময় টাকার পরিবর্তে রুপোর বাট দিয়ে দাম মেটাতেন।
• আবার অনেকে মনে করেন, রামানুজাচার্য যখন পুরীতে এসেছিলেন তখন তিনি এই বিশাল ধনসম্পত্তি লুকিয়ে রাখেন।
• উড়িষ্যার দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা একটি বই থেকে জানা যায়, ব্রিটিশরা মূল্যবান ধাতুর পরিবর্তে মঠ থেকে খাবার সংগ্রহ করতেন।
তাই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গুপ্তধন নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। বিশ্বাসের ওপর ভর করেই অত্যন্ত তত্পরতার সাথে খনন কার্য চালানো হচ্ছে। ২০১১ সালের পর বড় কোনো চমক অপেক্ষা করতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

