শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

‘উন্নয়নের নামে প্রাণবিনাশী প্রকল্প মানবে না মানুষ’

দিনাজপুরে ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবসে আবারও ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নে জোর দারি জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ফুলবাড়ীতে তেল গ্যাস ,খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদা ও কালো পতাকা উত্তোলন, নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র‌্যালি, কালো ব্যাজ ধারণ এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি পালন করে।

দিবসের জনসভায় অডিও বার্তায় তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ও লড়াই নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার দিকে নিয়ে যাবে, উন্নয়ন মানে শিক্ষা, চিকিৎসা ও দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের সম্পদ মাটির নিচে থাকুক কিংবা উপরে থাকুক এর মালিক জনগণ উন্নয়নের নামে কোনো প্রাণ বিনাশী প্রকল্প দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন,এখন চীনা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আবারও ফুলবাড়ী খনি নিয়ে নতুন করে চক্রান্ত করা হচ্ছে, কিন্তু ১৪ বছরের শিক্ষা হচ্ছে চক্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না কারণ জনগণ সজাগ আছে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে।

এদিন সকাল ১১টায় ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি ঢাকা মোড় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছোট যমুনা নদীর তীরে শহীদদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানায়। এর পর ফুলবাড়ী পেশাজীবী সংগঠনের নেতা পৌরসভার মেয়র মর্তুজা মানিকের নেতৃত্বে বিশাল একটি শোক র‌্যালি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

ফুলবাড়ী দিবস পালন করতে ফুলবাড়ী পৌর শহরের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকান বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে যোগ দেয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী শহরের যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দুপুরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিমতলা মোড়ের দিকে এগুতে থাকলে প্রথমে পুলিশ বাঁধা দেয়। পুলিশের বাঁধা পেয়ে বিশাল মিছিলটি জঙ্গি রূপ নেয়। পুলিশ-বিডিআরের বেড়িকেট ভেঙে মিছিলটি এগুতে থাকলে আন্দোলনকারীদের উপর টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে এসময় নিহত হয় আল আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। আহত হয় শতাধিক আন্দোলনকারী জনতা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *