শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

একটা জীবন তুমি কাটাও নিজের মতো করে, যেন বেলাশেষে অজুহাত দিতে না হয়

ছোট্ট একটা জীবন। আমরা যদি তারাশঙ্করের ভাষায় বলি তাহলে বলতেই হবে:

“এই খেদ আমার মনে-

ভালোবেসে মিটল না এ সাধ, কুলাল না এ জীবনে!

হায়- জীবন এত ছোট কেনে?

এ ভুবনে” ।।

আসলেই তাই। আর সে কারণেই জীবনটাকে ইচ্ছেমতো উপভোগ করা উচিৎ। কোন ইচ্ছে যেন অপূর্ণ না থাকে। আমার রীতিমতো মনে হয় জীবনটাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা উচিৎ। অর্থাৎ, যখন যেমন ইচ্ছা যাপন করো।

কখনো পাখির মতো হও। পাখির মতো দু ডানা‌ মেলে মুক্ত আকাশে স্বাধীন ভাবে ডানা ঝাপটে উড়তে থাকো। যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাও। মুক্তির স্বাদ নাও। মুক্তির স্বাদ না নিলে আর কিসের জীবন!

কখনো হও আকাশের মতো । কারও জীবনে এক টুকরো ছায়া হয়ে নেমে আসো। কারও কষ্টে ঝড়ে পড়ো বৃষ্টির মতো। যত কালিমা, যন্ত্রণা আছে সব মুছে দাও। মন ভালো করো রংধনু 🌈 হয়ে। সাত রাঙা রং হয়ে বিষাদগ্রস্ত মানুষটার জীবনটাকে করে দাও রঙিন।

কখনো পাহাড়ের মতো হও। নিজের জায়গায় থেকে অন্যকে ভাবাও। স্থির, সবাই দাপাচ্ছে, পর্বতের বুকে উঠছে, অথচ তুমি নিশ্চল, পাষাণ। ঠিক নিজের জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে। কারো ক্ষমতা নেই তোমাকে নড়ায়। প্রকৃতির বুকে পাহাড়ের মতো নিজেকে মেলে ধরো।

হয়ে যাও কখনো সাগরের মতো। নিজের বিশালত্ব নিয়ে অহংকার না করে বয়ে যাও আপন গতিতে। যার কাছে হাজার বাধাও কোন বাধা নয়। বয়ে চলো নিজের পথ তৈরি করে আপন গতিতে। হারিয়ে যাও অন্য কোন মোহনায়। ভালোবাসা শেখাও। আবার প্রয়োজনে গর্জে ওঠো। খুঁজে নাও নতুন ঠিকানা নতুন গন্তব্য। কখনো রাতের আকাশের তারার মতো হও। সঙ্গী হও কারও মন খারাপের।

তোমাকে নিয়ে লেখুক প্রেমিক, প্রেমিকারা।‌ভরে যাক পাতার পর পাতা। তুমি সাধারণ হয়েও অসাধারণ। তোমার কর্মে তুমি অসাধারণ। যাকে নিয়ে ভাবা যায়, লেখা যায়, ভালোবাসা যায় তবে খুব সহজেই কাছে পাওয়া যায় না। ছুঁয়ে দেওয়া যায় না। যাকে শুধু মনে মনেই কল্পনা করা যায় , তেমন মানুষ হও। একটা জীবন তুমি কাটাও তোমার মতো করে, তোমার স্বপ্নের মতো করে। যেন আফসোস না থাকে। যেন বেলাশেষে কাউকে তো নয়ই, নিজেকেও অজুহাত দিতে না হয়। আড়ালে চোখের জল মুছতে না হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *