শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ২২, ২০২৬

একবার নাগরিকত্ব পেলে তা আর নাকচ করা যাবে না : গুয়াহাটি হাইকোর্ট

আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপির আনা বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গুয়াহাটি হাইকোর্ট জানিয়েছেন, একবার কারো নাগরিকত্ব স্বীকৃতি পেলে তা আর নাকচ করা যাবে না। অর্থাৎ একবার ভারতের নাগরিকত্ব পেলে সেই ব্যক্তিকে আর বিদেশী বলে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি নতুন নাগরিকত্ব আইনে ‘বিদেশী’ হিসেবে তালিকাভুক্তদের করা বেশ কিছু মামলার শুনানিতে গুয়াহাটি হাইকোর্টের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ তাদের এ পর্যবেক্ষণ জানায়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেই দেশটিতে কার্যকর হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বিজেপি আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিজেপি গোষ্ঠী। এমন পরিস্থিতিতে ফের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কথা শোনা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই এক মামলা প্রসঙ্গে গুয়াহাটি হাইকোর্ট জানান, কোনো ব্যক্তিকে যদি একবার ভারতের নাগরিক বলে ঘোষণা করা হয়, তবে আর পরিবর্তন করা যাবে না। অর্থাৎ একবার ভারতের নাগরিকত্ব পেলে সেই ব্যক্তিকে আর বিদেশী বলে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না।

জানা গেছে, নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল আদালতে। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, তাদের প্রত্যেককেই একসময় ভারতীয় নাগরিকের মর্যাদা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। তাদের ‘বিদেশী’ বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার বিরুদ্ধেই মামলা করেছিলেন ওই ব্যক্তিরা।

সম্প্রতি ওই মামলাগুলোর শুনানিতে গুয়াহাটি হাইকোর্টের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, কোনো ব্যক্তিকে যদি একবার ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হয়ে থাকে, তবে সেই বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা হতে পারে না। সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে আইনি ভাষায় ‘রেস জুডিকাটা’ অর্থাৎ পূর্বেই বিচার হয়ে যাওয়া বলে বিবেচনা করতে হবে।

আইনের নীতি অনুযায়ী, পূর্বে বিচার হওয়া কোনো বিষয়ে যদি তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই একই বিষয় নিয়ে ওই একই বাদী ও বিবাদী পক্ষ আর মামলায় জড়াতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বিচারের প্রশ্নটিকে এই জাতীয় আগে বিচার হওয়া মামলা বলেই দেখা উচিত, এই মামলা প্রসঙ্গে এমনই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি এন কোটিস্বর সিং এবং বিচারপতি নানি ত্যাগিয়ার বেঞ্চের। তবে বৃহৎ ক্ষেত্রে এই পর্যবেক্ষণ কতখানি গুরুত্ব পাবে, আপাতত সেদিকেই লক্ষ্য রাখছে বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *