শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

এভাবে সংবাদকর্মীদের চাপে রাখা আত্মঘাতী : টিআইবি

এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের চিঠি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর একাধিক সাংবাদিককে তলব করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি বলে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘সাংবাদিক তার সংবাদের উৎস প্রকাশ করবেন না, এটাই প্রতিষ্ঠিত নীতি। এখন যদি সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয় যে, তাকে কে তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ঘটনার ব্যাপারে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস করবেন না। যা কার্যত স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যই বাধা হিসেবে গণ্য হবে। এভাবে সংবাদকর্মীদের চাপের মধ্যে রাখার নীতি আত্মঘাতী, সার্বিকভাবে জনস্বার্থবিরোধী, এবং এর ফলে পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী আদৌ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আগ্রহী কী-না সেই প্রশ্ন উঠতে পারে।’

টিআইবি মনে করে, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের বরং উচিৎ ছিল সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা।

এ প্রসঙ্গে ড. জামান বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনার লিখিতভাবে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। আলোচিত সেই কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খলবাহিনী সেই পথে না গিয়ে, বরং চিঠি কী করে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেল তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’

চিঠি কিভাবে ফাঁস হলো তা একান্তভাবে জানা প্রয়োজন হলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তা বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু এই পথে না এগিয়ে সাংবাদিকদের ওপর দৃশ্যমান চাপ তৈরি করার নীতি নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে টিআইবি।

চিঠিটির সত্যতা পুলিশ বাহিনী অস্বীকার করেনি উল্লেখ করে ড. জামান এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)- এর জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের পাঠানো একটি চিঠি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অন্তত এক ডজন সাংবাদিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. শাহ আবিদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিভিন্ন সাংবাদিককে তারিখ উল্লেখ করে ডিএমপি সদর দফতরে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পুলিশ এভাবে কোনও সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে না। যে দফতর থেকে চিঠিটি ফাঁস হয়েছে সেখানে জড়িতদের খুঁজে বের না করে উল্টো সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *