শিরোনাম
শনি. জানু ৩১, ২০২৬

এসআই প্ৰশ্নপত্ৰ ফাঁস মামলায় গ্রেফতার ৪৫ জন, পুলিশের কোনও পদস্থ আধিকারিক জড়িত থাকলেও পাবেন না রেহাই : ডিজিপি

গুয়াহাটি: অসম পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) পদে পরীক্ষার প্রশ্নপত্ৰ ফাঁস কাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্ৰেফতার করা হয়েছে। এই কেলেংকারির সঙ্গে পুলিশের কোনও উচ্চপদস্থ কিংবা পদস্থ আধিকারিকও যদি জড়িত থাকেন, তা হলে তাঁদেরও রেহাই দেওয়া হবে না। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানালেন অসমের পুলিশ-প্রধান (ডিজিপি) ভাস্করজ্যোতি মহন্ত।

এডিজিপি জিপি সিং এবং আইজিপি (সিআইডি) সুরিন্দর কুমারকে সঙ্গে নিয়ে ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি মহন্ত জানান, সংগঠিত কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোট ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৩ জনই এসআই নিযুক্তি পরীক্ষার প্ৰশ্নপত্ৰ ফাঁস কাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি জানান, মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সনোয়ালের নির্দেশে এই ঘটনা সম্পর্কে সিআইডির কাছে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নলবাড়ি, লখিমপুর এবং কারবি আংলংয়েও ঘটনা সম্পর্কে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআই পদে নতুন করে স্বচ্ছভাবে পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে গুয়াহাটি এবং ডিব্ৰুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি মহন্ত। তিনি জানান, এখন থেকে পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের পরীক্ষা অসম পুলিশ নিজেই আয়োজন করবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরাই জড়িত রয়েছে কাউকে ছাড়া হবে না। এমন-কি পুলিশের কোনও উচ্চ পদস্থ অফিসারও যদি জড়িত বলে তথ্য পাওয়া যায় তা হলে তাঁকেও গ্ৰেফতার করা হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন।

অসম পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) সুরিন্দর কুমার জানান, এসআই পরীক্ষার প্ৰশ্নপত্ৰ ফাঁস কীভাবে হয়েছে তার তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন ডিআইজি পিকে দত্তের মালিকানাধিন হোটেল ভার্গব গ্ৰ্যান্ডের দুটো রুম সিল করা হয়েছে। হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তিনি আরও জানান, হোটেলটিতে অবৈধভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার আয়োজন করা হয়েছিল। ধারাপুরের অক্ষয় টেলি কমিউনিকেশন নামের এক ব্যবসায়িক প্ৰতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি হার্ড ডিস্ক, অ্যাডমিট কার্ড, ব্ল্যাঙ্ক চেকবুক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এসআই পরীক্ষার প্ৰশ্নপত্ৰ লিক কাণ্ডে আরও তিনটি মামলা দায়ের করতে আদালতে আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত সুরজ শর্মার বাড়িতে উদ্ধার হওয়া গাড়িটি তামিলনাড়ুর রেজিস্ট্ৰেশন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তিন পুলিশ অফিসার।

ডিজিপি জানান, যে দশ জন অভিযুক্ত ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৫ ধারায় নিজেদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করিয়েছেন তারা তাদের ভাষ্য পরিবর্তন করতে পারবে না, এ কথা স্পস্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসআই কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত দিবন ডেকার ফেসবুক পোস্টের ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্ৰেফতার করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই অভিযানে বিপুল অঙ্কের টাকাও উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত টাকাগুলো এসআই কাণ্ডের সঙ্গে কোনও সংযোগসূত্ৰ রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গোটা তদন্তে ৩ কোটিরও বেশি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার পর আরও ১৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে অসম পুলিশের অভিযানকারী দল। এই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত যে সব প্ৰতিষ্ঠান বা এজেন্সি রয়েছে সকলকে হঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে অসম পুলিশে নিয়োগ প্ৰক্ৰিয়ায় বাইরের কোনও প্ৰতিষ্ঠানকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এডিজিপি জিপি সিং। রিংকি / এসকেডি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *