শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ওটিটির জন্য নতুন করে ধ্বংসের মুখে দেশীয় চলচ্চিত্র

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে আশ্চর্যভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। করোনাকালে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো হয়ে উঠেছে দেশে বিনোদনের বড় মাধ্যম। নেটফ্লিক্সের পাশাপাশি সাবস্ক্রিপশন বেড়েছে নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম, হইচই, বায়োস্কোপ, বঙ্গবিডির এর। এ ছাড়া দেশি নতুন নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আনছে নতুন কনটেন্ট। দেশের জনপ্রিয় তারকারাও নিয়মিত কাজ করছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে।

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ২৫ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর থেকে ওটিটির প্ল্যাটফর্মে দর্শক বেড়েছে অনেক গুণ। ওটিটিতে সাবস্ক্রিপশন বেড়েছে অনেক। তবে এখন এগুলোয় দর্শক বা সাবস্ক্রিপশন কত, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর বন্ধ হয়ে যায় সিনেমা হল। সব ধরনের শুটিং বন্ধ হওয়ায় টিভিতে প্রচার হতে থাকে পুরনো নাটক। ঘরে বসে যারা নতুন কিছু দেখতে চেয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ দেখেছেন সবচেয়ে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট। শুধু নেটফ্লিক্স নয় দেশে আরও বেশ কিছু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এসেছে যেখানে মরীচিকা, খাঁচার ভেতর অচীন পাখি, বরফ কলের গল্পের মত বেশ কিছু কন্টেন্ট উপহার দিয়েছেন। যেগুলো মুক্তির পঅর আরও বহুগুণ বেড়েছে ওটিটির দর্শক।

এদিকে করোনার প্রকোপ কাটিয়ে সব কিছু স্বাভাবিক হলেও দেশে তেমন ভাবে মান সম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে না। যখন থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা রিলিজ হওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে যে ইন্টারনেটের যুগে যখন ওটিটিতে সহজেই বাড়িতে বসে মানুষ সিনেমা দেখতে পারছেন তখন আদৌ কি সিনেমা হলগুলো ভবিষ্যতে টিকবে? আর যেভাবে মানুষ হল বিমুখ হয়েছেন তাতে সিনেমা হলগুলোর ভবিষ্যৎ কি?

ঢাকা অ্যাটাক খ্যাত নির্মাতা দীপংকর দীপন বলেন, আমি সিনেমা হল নিয়ে খুবই চিন্তিত। আমার কাছে মনে হয় ওটিটি (OTT) কখনোই সিনেমা হলের বিকল্প হতে পারে না। দুটো আলাদা মাধ্যম। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার যে আনন্দ-অনুভূতি, তা এখনো উপভোগ করার বাকি আছে আমাদের। এই আনন্দ-অনুভূতি ঘরে বসে সিনেমা দেখে উপলব্ধি করা সম্ভব না। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার যেই আনন্দ তা আমাদের নতুন প্রজন্ম পুরোপুরি পায়নি। একটি সিনেমা দেখে বুক ফুলিয়ে সিনেমা হল থেকে বের হয়ে দেশকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখা- এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের যাওয়া উচিত।

এদিকে নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, করোনার এই সময়ে অনেকেই সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখছেন না। তারা এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপে সিনেমা দেখছেন। এ অবস্থায় সিনেমা হলের পরিবর্তে ওটিটিতেই ছবি মুক্তি দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনলাইন এখন সময়ের চাহিদা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য সিনেমা হলে দর্শক যাচ্ছে না বা চলচ্চিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি ঠিক তা না। করোনার পঅর দেশের হলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। পাশাপাশি হল গুলোর পরিবেশ মানসম্মত নয়, যার ফলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। পাশাপাশি মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ তো আছেই ।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে মিডিয়াতে দেখা গেছে নানা জনের নানা মত। তবে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ হলে আবারও হলে দর্শক যাবে। ফিরে পাবে সেই আগের চিরচেনা রূপ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখার হিড়িকটা সাময়িক। চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে সিনেমা হলের বিকল্প নেই বললেই চলে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *