একুশের বিধানসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জি কথা দিয়েছিলেন ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে চাষিভাইদের ভাতার টাকা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করবেন। আর ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা ব্যানার্জি কৃষকদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতি পালন করলেন। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কৃষকরা এখন পাচ্ছেন বার্ষিক ১০ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ১৭ জুন নবান্ন থেকেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। সেইমতো প্রথম দিনেই রাজ্যের ১০ লক্ষ কৃষককে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভাতার টাকা। প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে টাকা। ১০ লক্ষ কৃষকের জন্য প্রথম কিস্তির ২৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে প্রথম কিস্তির টাকা রাজ্যের মোট ৬২ লক্ষ কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজ করতে সময় নেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ দিন। এত কম সময়ের মধ্যে কৃষকদের ব্যাংকে টাকা ঢুকে যাওয়ায় রাজ্যের সমস্ত চাষিভাইরাও বেশ খুশি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এই জনহিতকর কাজের প্রশংসাও করছেন প্রত্যেক কৃষকরা।
রাজ্যের ৬২ লক্ষ কৃষককে এই প্রকল্পের সুবিধা দিতে গিয়ে প্রথম কিস্তিতে মোট খরচ করা হয়েছে ১৮০০ কোটি টাকা। এত অল্প সময়ে সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে, যা মমতা ব্যানার্জির সরকারের এক বড় সাফল্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নবান্নের তরফে জানানো হচ্ছে, ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও এবছরের শেষে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সমস্ত কৃষককে। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে আগে ৫ হাজার টাকা করে পেতেন কৃষকরা।
এখন তা বাড়ি্য়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কৃষকরা বার্ষিক ভাতা ছাড়াও জীবনবিমার সুবিধাও পান। প্রত্যেক কৃষককে ২ লক্ষ টাকার জীবনবিমা করে দেওয়া হয়। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের ২৮ হাজার কৃষক পরিবার ইতিমধ্যেই মৃত্যুকালীন বিমার সুবিধা লাভ করেছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে কৃষকদের কোনও জীবনবিমা দেওয়া হয় না। তাই এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে টেক্কা দিয়েছে মমতা ব্যানার্জির সরকার।

