শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

করিমগঞ্জের ভারত-বাংলা সীমান্ত এলাকায় সমাজবিরোধীদের রুখতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি

জন্মজিত্‍ / সমীপ, করিমগঞ্জ (অসম): করিমগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য ক্রমশ বেড়েই চলছে। গরু পাচার ও ডাকাতি সহ সংগঠিত বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের দরুন সীমান্ত এলাকার জনগণ তটস্থ হয়ে উঠেছেন। সীমান্তঘেঁষা গ্রামাঞ্চলের নিরীহ মানুষের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামে রাতের আঁধার নামতেই মদের ফোয়ারা ছুটে। বিএস‌এফ ও স্থানীয় পুলিশ সবকিছু জেনেও রহস্যবজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে চলছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ড্রাগস ও গরু পাচার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা নীলোত্‍পল দাস।

আজ সোমবার বৃহত্তর নিলামবাজার এলাকার বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের পদাধিকারীদে নিয়ে নীলোত্‍পল দাস পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমারের হাতে একটি স্মারকপত্র তুলে দেন। ড্রাগস ও গরু পাচার সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে লাগাম টানতে সীমান্ত এলাকায় একটি পুলিশ ওয়াচপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি বিএসএফ এবং পুলিশি টহলদারি জোরদার করার‌ও দাবি জানানো হয়েছে স্মারকপত্রে।

স্মারকপত্র প্রদান করে বিজেপি নেতা নীলোত্‍পল দাস সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, করিমগঞ্জ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ড্রাগস, গরু পাচার, চোরাকারবার, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের এক নিরাপদ মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন রাতের আঁধার নামতেই এ-সব এলাকায় সমাজবিরোধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নিলামবাজার পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা রাতের আঁধার নামতেই ড্রাগস ও গরু পাচারকারীদের দখলে চলে যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্তব্যরত জ‌ওয়ানদের চোখে ধুলো দিয়ে পাচারকারীরা প্রতিরাতে শতশত গরু বাংলাদেশে পাচার করছে। এক‌ইভাবে অবৈধ নেশাকারবারিরাও ড্রাগস, নেশার ইয়াবা ট্যাবলেট, করেক্স, ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য ওপারে পাচার করে থাকে। আর অপরাধীরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিলামবাজার-বিলবাড়ি ও কায়স্থগ্রাম-দলগ্রাম এই দুটি পূর্ত সড়ককেই নিরাপদ করিডোর হিসাবে ব্যবহার করে চলছে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএফ ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার ফলে সীমান্ত এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারবারি এবং গরু পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণের গবাদি পশু প্রতি রাতে চুরি হচ্ছে। প্রশাসন এর কোনও কিনারা করতে পারছে না। তাই ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিজেপি নেতা নীলোত্‍পল দাস। স্মারকপত্র প্রদানকালে বিজেপির স্টেট কাউন্সিল মেম্বার নীলোত্‍পল দাসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পূরবী দাস, শম্পা পুরকায়স্থ, শেলি ভট্টাচার্য, স্বপ্না ভট্টাচার্য, শিবানী দাস, মাম্পি দাস, মিত্রা দাস, অপর্ণা দাস প্রমুখ।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *