শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

করিমগঞ্জের মালেগড় টিলায় সিপাহি বিদ্রোহের ২৬ জন বীর শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

জন্মজিত্‍ / সমীপ, করিমগঞ্জ (অসম): সিপাহি বিদ্রোহের পটভূমি লাতুর ঐতিহাসিক মালেগড় টিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রথমে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা তর্পণ করেন জেলাশাসক আনবামুথান এমপি।

জেলা প্রশাসন, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর ০৭ নম্বর বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাটকাই ট্রেকার্সের যৌথ উদ্যোগে পালিত হয় শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। সম্পূর্ণ কোভিড প্রটোকল মেনে সকাল দশটায় সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ২৬ বীর শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় ২৬ বীর শহিদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলন করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন জেলাশাসক আনবামুথান এমপি, পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার ঝা, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর ০৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডেন্ট মণীশ কুমার, ডেপুটি কমান্ডন্ট অখিলচন্দ্র মণ্ডল, রঘুরাজ সিং, ইন্সপেক্টর রাজকুমার মিনা, মনোজ পিলানিয়া, মনোজ কুমার, পবন কুমার, জেলা তথ্য ও জনসংযোগ আধিকারিক সাজাদ্দুল হক চৌধুরী। পাটকাই ট্রেকার্সের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন মুখ্য আহ্বায়ক সৈয়দ মুজিব আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ দাস।

শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার। সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্মারকস্থলকে জাতীয় ঐক্য ঘোষণার দাবি জানানো হয় পাটকাই ট্রেকার্সের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ক্ষোভ যখন গোটা দেশ জুড়ে জ্বলে ওঠে তখন চট্রগ্রাম কোষাগার লুণ্ঠন করে মালেগড় টিলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন দেশের বীর সিপাহিরা। কিন্তু ১৮৫৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে ৩৪ নেটিভ ইনফ্রেনটি বাহিনীর যুদ্ধ সংগঠিত হলে, মালেগড় টিলায় শহিদ হন দেশের ২৬ জন বীর সিপাহি। সঙ্গে নিহত হন মেজর পদমর্যাদার ব্রিটিশ এক আধিকারিক। সেই ১৮ ডিসেম্বরকে স্মরণীয় করে রাখতে বিগত দশ বছর আগে প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত পাটকাই ট্রেকার্স নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর পর থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায় করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীও এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *