স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: এক ফোনেই করোনা আক্রান্তের বাড়িতে হাজির হয়ে যাচ্ছেন লাল স্বেচ্ছাসেবকেরা! বাড়িতে নিভৃতবাসে থাকা পরিবার গুলির কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা একেবারে নিখরচায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বেশির বার পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো পুরসভা-প্রশাসনের লোকজন আসছেন না।
সেই দিক থেকে বামপন্থী ছাত্র ও যুবদের সমন্বয়ে গঠিত লাল স্বেচ্ছাসেবকদের ফোন করা মাত্রই তাঁরা আনাজ, মাছ, ওষুধ, শিশুখাদ্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন দোরগোড়ায়। ঝাড়গ্রাম শহরে রোজই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। জরুরি পরিস্থিতিতে শহরের আক্রান্ত এলাকাগুলিকে প্রশাসনের উদ্যোগে গণ্ডিবদ্ধ করা হয়েছে।
গণ্ডিবদ্ধ এলাকার বাসিন্দারা বাইরে বেরোতে পারছেন না। আবার করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলিরও বাড়ির বাইরে বোরনোর অনুমতি নেই। কিন্তু পেটে খেয়ে তো বাঁচতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে দেবদূতের মতো হাজির হচ্ছেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা দেবাশিস ভুই, উজ্জ্বল চ্যাটার্জি, বাম যুব সংগঠনের স্বপন বিশুই, বিজয় দাসেরা।
সিপিআইয়ের ছাত্র সংগঠন এআইএসএফ এবং যুব সংগঠন এআইওয়াইএফের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই লাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যরা করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলির কাছে বিনামূল্যে সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী ও শিশুদের খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিলেন দেবাশিস, উজ্জ্বল, বিজয় ও স্বপনেরা।
তাঁদের কথায়, ”করোনা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। আক্রান্ত পরিবারগুলি কার্যত একঘরে হয়ে থাকছে। সেই কারণে উপযুক্ত সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারগুলির কাছে নিখরচায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’’

