সমীপ / অরবিন্দ, গুয়াহাটি: দক্ষিণ অসমের কাছাড় জেলার মিজোরাম সীমান্তবর্তী শেওড়াথলে ধলাখাল ৯৯০ নম্বর বাংলা মাধ্যমের একটি এলপি স্কুল বৃহস্পতিবার রাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সন্দেহভাজন মিজো দুষ্কৃতীরা। প্রতিবেশী দুই রাজ্যের সীমান্ত বিবাদ যখন চরমে, তখন হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে বেজায় বিরক্ত হয়েছেন অসমের অর্থ-স্বাস্থ্য-শিক্ষা-পূর্তমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। শেওড়াথলে বাংলা মাধ্যমের স্কুলে বিস্ফোরণের ঘটনা বর্ণনা করে জাতীয় সংবাদপত্র টাইমস্ অব ইন্ডিয়ায় এক খবর প্রকাশ হয়েছে। খবরের কাগজে ঘটনাটি পড়ে আজ শনিবার তাঁর অফিশিয়াল টুইট হ্যান্ডলে মন্ত্রী ড. শর্মা লিখেছেন ‘ডিসটার্বিং নিউজ’।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শিলচরের সাংসদ ডা. রাজদীপ রায় এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গাকে ট্যাগ করে টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার খবর শেয়ার করে মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা কেবল দুটি শব্দ লিখেছেন ‘ডিসটার্বিং নিউজ’।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, শেওড়াথলে ধলাখাল ৯৯০ নম্বর বাংলা মাধ্যমের একটি এলপি স্কুলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সন্দেহভাজন মিজো দুষ্কৃতীরা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মিজোরামের নর্দার্ন রেঞ্জের ডিআইজি লালবিয়াকথাঙ্গা খিংতে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাংলা মাধ্যমের স্কুলটি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। শক্তিশালী জিলেটিন ব্যবহার করে স্কুলবাড়ির বেশ ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন, জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, জানান মিজোরামের ডিআইজি। ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি বলেও জানান তিনি।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ১৮ অক্টোবর রাতে কাছাড় জেলার লায়লাপুরে অসম-মিজোরাম আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী খুলিছড়ায় ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের পর ব্যাপক হাঙ্গামা করেছিল মিজো দুষ্কৃতীরা। হিংসাত্মক ঘটনাবলির পর পরিস্থিতির সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরেরদিন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য, রাজ্যের গৃহসচিব জ্ঞানেন্দ্র ত্রিপাঠি, অসম পুলিশের ডিজিপি (বর্ডার) মুকেশ আগরওয়ালারা ঘটনাস্থল খুলিছড়া এবং লায়লাপুরে যান।
এর পর মিজোরামের সীমান্তঘেঁষা অসম ভূখণ্ডে হিংসাত্মক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর প্রতিবেশী দুই রাজ্যের গৃহসচিব স্তরে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনাস্থল লাইলাপুরের কাছে সেনা ছাউনিতে আয়োজিত বৈঠকে সীমান্তে উত্তেজনার উপসম ঘটাতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংকল্প গ্রহণ করেছে উভয় পক্ষ। কিন্তু এত সবের পরও হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অসমের বহু দফতরের মন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে বরাক উপত্যকার দুই জেলার তিন বিধানসভা এলাকা যথাক্রমে কাছাড়ের লায়লাপুর (ধলাই বিধানসভা এলাকা), পাথারকান্দির মেদলিছড়া এবং রাতাবাড়ির চেরাগিতে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকায় মিজো হানাদাররা ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করেছে। দুই জেলার সীমান্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল। ফোনে কথা বলেছিলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার সঙ্গেও। অসম ভূখণ্ডে প্রবেশ করে মিজো দুর্বৃত্তরা যে হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত করেছে সে সব বর্ণনা করে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন সর্বানন্দ। টেলিফোনিক বার্তালাপে মিজো আগ্রাসীদের রুখতে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্তও করেছিলেন জোরামথাঙ্গা।
ইত্যবসরে কয়েকবার কাছাড় এবং করিমগঞ্জের মিজোরাম সীমান্তে সংঘাতজনিত পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত যাবতীয় সহায়তা করতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

