শিলচর (অসম) : কাছাড়ে ৩,৬৩১ জন সহ গোটা অসমে এক লক্ষ ভূমিহীন নাগরিককে জমির পাট্টা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার শিলচরের বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ জনের হাতে ভূমিপাট্টার সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছেন বন ও পরিবেশ, মত্স্য এবং আবগারি মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য। এদিন সমগ্র রাজ্যের ২৫ জেলার ভূমিহীন এক লক্ষ ভূমিপুত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির পাট্টার সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে কাছাড় জেলার মোট ৩,৬৩১ জন মনোনীত ভূমিহীন নাগরিকদের মধ্যে ৫০ জনের হাতে আজ জমির সার্টিফিকেট তুলে দেন মন্ত্রী বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তারা।
এ উপলক্ষে শিলচর বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী পরিমল বলেন, রাজ্যের ২৫টি জেলায় এক লক্ষ ভূমি পাট্টা ও জমি বরাদ্দ শংসাপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তাই আজ এক ঐতিহাসিক দিন। তিনি আরও বলেন, ভূমিহীনদের কাছে ভূমি অধিকার হল মালিক না হয়ে বছরের পর বছর ধরে জমিতে বসবাসকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার জমির অধিকার দিয়ে এক লক্ষ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে বলে উল্লেখ করেন পরিমল শুক্লবৈদ্য।
মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার বেশ কয়েকটি জনমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এগুলি যেমন মাথাপিছু ১০ কেজি চাল, বিধবা ও বৃদ্ধ পেনশন এবং অটল অমৃত ও আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রান্তে পরিবর্তনের সূচনা করেছে। বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বরাক উপত্যকায় একটি মিনি সচিবালয় নির্মিত হচ্ছে।
মন্ত্রী শুক্লবৈদ্য আরও বলেন, রাজ্য বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন মত্স্য উত্পাদন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মত্স্য যোজনা এবং “ঘরে ঘরে পুকুর ঘরে ঘরে মাছ” প্রকল্প অনুসারে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা থেকে সাড়ে ৪.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে।
এদিনের ভূমির পাট্টা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক দিলীপকুমার পাল, মিহিরকান্তি সোম, কিশোর নাথ, অমরচাঁদ জৈন প্রমুখ। তাঁরা বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলায় জমির পাট্টা বিতরণকে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার পরিপূর্ণতা বলে অভিহিত করেন।
জেলাশাসক কীর্তি জল্লি আজকের পাট্টা বিতরণকে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করতে সাহায্য করবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। কীর্তি জল্লি বলেন, “জমি একটি মূল্যবান সম্পদ এবং জমির মালিকানা মূলত মালিককে মর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত করে। সভার শুরুতে অতিরিক্ত জেলাশাসক ললিতা রংপিপি সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। বিশু / এসকেডি / অরবিন্দ

