অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৭ সালের ৭ মে। নিয়োগের পর নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে উঠে আসে তার নাম। উপাচার্যের এমন কিছু অনিয়মের ‘তথ্য-প্রমাণ’ সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আওয়ামীপন্থী অন্তত ৬৩ জন শিক্ষক।
এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ইউজিসি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে অভিযোগকারী চারজন অধ্যাপকের গণশুনানি করেছে ইউজিসি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে গণশুনানির জন্য ডেকেছিল ইউজিসি। কিন্তু তাদের দুজনের কেউ ওই শুনানিতে উপস্থিত হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষকের দেওয়া সেই ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনর হাতে এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে উপাচার্যের নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, কম যোগ্যদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়। এসব বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ সোমবার থাকছে প্রথম পর্ব।
কাছের লোকদের নিয়োগ দিতে শিক্ষক নীতিমালায় যোগ্যতা শিথিল
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মেয়ে ও জামাইসহ কাছের মানুষদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে উপাচার্য এম আবদুস সোবহান প্রথমে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় যোগ্যতা কমিয়ে আনেন। এতে করে আগের নীতিমালায় আবেদনের অযোগ্যদের সুযোগ হয়ে যায়। তারপর কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাছের মানুষদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন উপাচার্য। তার দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন অন্তত ৪৩ জন শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের নীতিমালায় সকল পর্যায়ে অনুষদের সব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল সনাতন পদ্ধতিতে চারটি পর্যায়েই প্রথম শেণি/বিভাগ। গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসি ও এইচএসসিতে ২০০৪ ও তার পরবর্তী সময়ে পাস করা প্রার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫ এবং ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের প্রার্থীদের জন্য জিপিএ ৪.০০ থাকার বিধান রাখা হয়। এ ছাড়া স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। আর বাংলা ও ইংরেজি বিভাগে ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে যেকোনো একটিতে সিজিপিএ ৩.৫ ও অন্যটিতে ৩.২৫ থাকার বিধান রাখা হয়। তবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধা তালিকায় প্রথম থেকে সপ্তম মেধাক্রমের মধ্যে থাকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেয়ে আগের শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় যোগ্যতা কমিয়ে আনেন। নতুন নীতিমালায় বলা হয়, তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নীতিমালা পরিবর্তন আনা হয়। কলা, চারুকলা ও ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ ক্যাটাগরিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যেকোনো একটিতে সিজিপিএ ৩.০০ ও অন্যটিতে ৩.২৫। সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় শিক্ষা, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট ও আইইআর পর্যায়ে একটিতে সিজিপিএ ৩.২৫ ও অন্যটিতে ৩.৫০ এবং বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষদগুলো ও এ সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটগুলোতে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে নিয়োগ প্রত্যাশীদের। এর বাইরে আগের নীতিমালায় থাকা প্রথম থেকে সপ্তম পর্যন্ত মেধাক্রমের শর্তটি তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসির ক্ষেত্রেও আবেদনে যোগ্যতা শিথিল করা হয়।
যেসব বিভাগে ৪৩ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪ জন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে (আইবিএ) ৪ জন, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগে ৩ জন, আইন বিভাগে ৩ জন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ৩ জন, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৩, ফলিত পদার্থ বিভাগে ৪ জন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন, ফলিত গণিত বিভাগে ৩, ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগে ৪ চার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১ জন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইআর) ৫ জন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বলছেন, নীতিমালা শিথিল করে, অনেক মেধাবীদের বঞ্চিত করে উপাচার্য এম আবদুস সোবহান নিজ মেয়ে ও জামাতা, কাছের লোকদের নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান নিম্নমুখী করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে পড়বে।
উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতার নিয়োগ
২০১৮ সালে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগটি খোলার পর ৪৮৪তম সিন্ডিকেটে বিভাগের প্রথম ধাপের নিয়োগে মেয়ে সানজানা সোবহানের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন উপাচার্য। আগের নীতিমালায় শিক্ষক হিসেবে আবেদনের কোনো যোগ্যতা ছিল না তার। কেননা বিভাগের ফলাফলে তার ব্যাচে তার অবস্থান ছিল ২১তম। উপাচার্যের মেয়ের সঙ্গে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়া সাজু সরদারের স্নাতক শ্রেণির ফলাফল মেধাতালিকায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে ছিল না। আগের নীতিমালায় তিনিও আবেদনের অযোগ্য। এই সাজু সরদারের নামে ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করে ব্যাপক ভাংচুরের অভিযোগে মামলা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে বলে গতকাল রোববার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান সাজু সরদার। বর্তমান প্রশাসন তাকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দিয়েছে।
প্রশাসনের মামলা থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাজু সরদার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘যিনি নিয়োগ দিয়েছেন, তিনিই বলতে পারবেন। প্রক্টর স্যার বা উপাচার্য মহোদয়, এনারাই বলতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো যারা ইয়াং, এনার্জেটিক তাদেরই এই দায়িত্ব (সহকারী প্রক্টর) দেওয়া উচিত।’
বক্তব্য জানতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক সানজানা সোবহানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।
জামাতাকে নিয়োগ
উপাচার্যের জামাতা (সানজানা সোবহানের স্বামী) এ টি এম শাহেদ পারভেজকে নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ)। মার্কেটিং বিভাগ থেকে পাস করা উপাচার্যের জামাতার স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ছিল ৩.৫ এর নিচে। বিবিএ ও এমবিএ কোনো পরীক্ষাতেই তার মেধাক্রম প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে ছিল না। অথচ ওই ব্যাচে এমবিএ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩.৮৯। মার্কেটিং বিষয়ে আইবিএ-তে আবেদনকারী ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয়টিতেই সিজিপিএ ছিল ৩.৫ এর ওপরে। আর এই ব্যাচে ৩.৫ বা তার বেশি সিজিপিএ পেয়েছেন ৬৬ জন।
৬৭তম অবস্থানে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮৯তম সিন্ডিকেটে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান উপাচার্যের জামাতা। আগের নীতিমালা বহাল থাকলে তিনি শিক্ষক হিসেবে আবেদন করারই সুযোগ পেতেন না। উপাচার্যের জামাতার সঙ্গে আইবিএ-তে নিয়োগ পাওয়া অপর শিক্ষক মো. জুলহাস হোসেনও আগের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের অযোগ্য।
অনেক যোগ্যতম প্রার্থী থাকার পরও তাদের বাদ দিয়ে শুধু উপাচার্যের জামাতা হওয়ার কারণেই কি আপনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রভাষক এ টি এম শাহেদ পারভেজ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আপনারা পত্রিকা ঘাটাঘাটি করেন, উত্তর পেয়ে যাবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করতে বলা হয়। সাধারণত এটাই হয়ে থাকে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে (নম্বর : ১১/২০১৮) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মার্কেটিং বিষয়ে দুজন প্রভাষক এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিভাগে ২০১০ সালে বিবিএ ও ২০১১ সালে এমবিএন ডিগ্রি দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের আবেদনের সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র মেয়েকে নিয়োগ দিতেই ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরও ৯ জন আবেদন করেছিনে। বিধি অনুযায়ী তারা আবেদনে অযোগ্য হলেও তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভাইভার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে কার্ড দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, মেয়েকে নিয়োগ দিতে উপাচার্য নতুন ওই বিভাগের কোনো সভাপতি নিয়োগ দেননি। তিনি নিজ উদ্যোগেই মেয়েকে নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডীন অধ্যাপক এম হুমায়ুন কবিরকে সভাপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।
আইন বিভাগ ‘নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তিনটি স্থায়ী (সহকারী অধ্যাপক/প্রভাষক) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (নম্বর : ০৭/২০১৭) প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে মোট ৪১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। অনুষদে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাওয়া, চারটি পর্যায়ে প্রথম বিভাগ/শ্রেণিতে উত্তীর্ণ আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে ‘প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও’ নূর নুসরাত সুলতানাকে ৪৮৫তম সিন্ডিকেটে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নূর নুসরাত সুলতানার স্বামী মো. শিবলী ইসলাম আইন বিভাগের শিক্ষক। বর্তমান উপাচার্য আবদুস সোবহানের প্রথম মেয়াদকালে ‘বিধি ভঙ্গ করে’ আবেদনের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আইন বিভাগে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে এই শিবলী ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছিল। শিবলী ইসলাম বর্তমান উপাচার্যের সময় ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পীর ভাগ্নে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে শিবলী ইসলামকে বরখাস্ত করেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট ওই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই বিভাগে তার স্ত্রী নূর নুসরাত সুলতানা আবেদনের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাওয়া ওই বিভাগের চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদা।
স্ত্রীর চাকরি পাওয়ার বিষয়ে জানতে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শিবলী ইসলাম বলেন, ‘সে যখন নিয়োগ পায়, তখন আমার স্ত্রী ছিল না।’ নিজের নিয়োগের নিয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন মেনেই তার নিয়োগ চূড়ান্ত করেছিল।
উপ-উপাচার্যের জামাতাকে নিয়োগ
স্নাতকে (সম্মান) প্রথম শ্রেণি বা জিপিএ ৩.৫ না থাকা সত্ত্বেও মো. সালাউদ্দিন সাইমুমকে একই সিন্ডিকেটে আইন বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার জামাতা। আগের নীতিমালায় তিনি আবেদনের অযোগ্য। অথচ ওই বিভাগে নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেকের ফলাফল মো. সালাউদ্দিন সাইমুমের চেয়ে ভালো ছিল।
উপ-উপাচার্যের নিয়োগ বাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস
আইন বিভাগের ওই নিয়োগে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সঙ্গে এক নিয়োগ প্রার্থীর স্ত্রীর ফোনালাপা ফাঁস হয়। পরে সেটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই বিষয়টি নিয়ে এখন তদন্ত করছে ইউজিসি। এ বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে গণশুনানির জন্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর উপ-উপাচার্যকে ইউজিসির আগারগাঁও কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া ‘অসুস্থতার’ অজুহাত দিয়ে সেখানে উপস্থিত হননি।
উপ-উপাচার্যের মেয়েকে নিয়োগ
উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মেয়ে জাকিয়া জিনাত চৌধুরী কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান প্রশাসনের সময়ে। তিনি আইন বিভাগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন সাইমুমের স্ত্রী।
এসব বিষয়ে জানতে উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মুঠোফোনে একাদিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক মো. আজিজুর রহমান জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি সম্প্রতি জনসংযোগ দপ্তরে দায়িত্ব পেয়েছেন। এসব বিষয়ে উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য ভালো বলতে পারবেন।

