কাটিগড়ায় ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে করোনা ভাইরাস। শাসক দলের একাংশ নেতার বেপরোয়া গতিবিধিতে করোনার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে কালাইন এলাকা। রেপিড টেস্ট অভিযানে কাটিগড়ায় প্রতিরোধী বন্ধু ও নেহরু যুবকেন্দ্রের জাতীয় স্বেচ্ছাসেবকদের তত্পরতা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে কাটিগড়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত পাঁচদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৭ জন। এ পর্যন্ত ২০০ অতিক্রম হয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কাটিগড়া, কালাইন, সুবোধনগর ও আয়লাতল নুনছুড়ির চার জনের মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে যুব সমাজের প্রতিরোধী বন্ধু ও নেহরু যুবকেন্দ্রের জাতীয় স্বেচ্ছাসেবকদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। জালালপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য খণ্ডের আওতাধীন দিগরখাল মিনি পাব্লিক হেল্থ সেন্টার, কাটিগড়া মডেল হাসপাতাল, চেরাগি বাজার, কালাইন সিএইচসি হাসপাতাল ও দিগরখাল চেক গেটে চলছে রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কর্মসূচি। এক্ষেত্রে অবশ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নানাভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট করতে গিয়ে ও একাংশ উদ্ভট মানুষের কাছে ভর্ত্সিত হতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মীদের। এ ধরনের বেশি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কালাইন এলাকায়। ফলে গোটা কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মীদের। অনেক পরিবারের লোকদের করোনার উপসর্গ সর্দি জ্বর কাশি প্রভৃতি থাকার পরও ভীতিগ্রস্ত হয়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে গিয়ে স্থানীয় ফার্মাসি থেকে ওষুধ নিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন। তবুও করোনা টেস্টে এগিয়ে আসছেন না। অনেকে আবার রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা পজিটিভ আক্রান্তের ব্যাপারে নিশ্চিত রিপোর্ট পাবার পরও কোভিড চিকিত্সার্থে মেডিক্যাল কলেজ বা হাসপাতালে যেতে চাইছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা অ্যম্বুল্যান্স দিয়ে মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দিলেও একাংশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ৩/৪ দিনের মধ্যে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থাকার বাহানায় এসে লম্ফঝম্প করছেন। ফলে ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কাটিগড়ার কালাইন অঞ্চলের একাংশ লোকের বেপরোয়া মনোভাবের জন্য গোটা কাছাড় জেলার মধ্যে কালাইন অঞ্চলটি অভিশপ্ত হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটছে। স্বাস্থ্যবিভাগের চিকিত্সক থেকে শুরু করে বিপিএম, বিসিএম, নার্স, আশাকর্মী প্রত্যেকেই দিনরাত এক করে মাঠে তত্পরতার সঙ্গে কাজ করছেন।
জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ কাটিগড়ার প্রতিরোধী বন্ধু এবং নেহরু যুবকেন্দ্রের জাতীয় স্বেচ্ছাসেবকরা তত্পরতার সঙ্গে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট অভিযানে সহযোগিতা করছেন। কাটিগড়ার চারজন নেহরু যুবকেন্দ্রের ভলান্টিয়ার রাহুল দেব, শুভম দত্ত, মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াসিত, কণিকা সহ ৫৯ প্রতিরোধী বন্ধুও সক্রিয়ভাবে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহযোগিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
কিন্তু বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে একাংশ বেপরোয়া লোকজনের জীবনশৈলিতে লাগাম টানাতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়া রয়েছে বলে সচেতন নাগরিকরা অভিমত ব্যক্ত করছেন। নতুবা শীঘ্রই কাটিগড়ায় অতিমারি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে এমনিতেই কাছাড় জেলার মধ্যে কাটিগড়া করোনার হটস্পটে পরিণত হতে চলেছে।
এদিকে বর্তমানে কালাইন পুলিশ পেট্রোল পোস্টের ১ পুলিশ কর্মী, কালাইন বিদ্যুত্ পর্ষদের সাব ডিভিশনের ২ কর্মী, বন্ধন ব্যাঙ্কের কালাইন শাখার ১ অফিসার সহ প্রায় প্রতিটি অফিসে করোনা পজিটিভের থাবা পড়েছে। ফলে জনমনে তীব্র আতঙ্ক বাড়ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা নিজের জীবনের মায়া ছেড়ে সমাজকে রক্ষা করতে রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে ব্রাহ্মণগ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে করোনার উপসর্গ হিসেবে জ্বর সর্দি কাশির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হবার পরও কিছুসংখ্যক নেতা উপনেতা রেপিড টেস্টের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার পরিবেশ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। এক্ষেত্রে দুর্যোগ মোকালিলা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে শাস্তিমূলক কঠিন পরিস্থিতির সামনে পড়ার আশঙ্কা ঘণীভূত হচ্ছে। যদিও এলাকার পরিচিত মুখ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা অপমানিত হবার পরও উদারতার দৃষ্টিতে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মী।
কিন্তু এভাবে কোভিড-১৯-এর নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে অতিমারি করোনাকে আমন্ত্রণ জানানোর নামান্তর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে কালাইন-কাটিগড়া এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর করে তোলা হচ্ছে বলে এলাকার অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ।

