পশ্চিমবঙ্গ নিউজ ডেস্ক: করোনা মহামারি মারাত্মক আকারে ক্ষতি করেছে শিক্ষার্থীদের। বারবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া— এতে করে থাকছে না পড়াশোনার গতি, অনলাইনে ক্লাস করে বাচ্চারা বাধ্য হয়ে। আগ্রহ নেই, প্রাণ নেই তাতে। এখন শিক্ষার্থী, অভিভাবক কেউই আর চাইছেন না যে স্কুল বন্ধ থাকুক।
অবশেষে আজ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিমবঙ্গে খুলে গেল স্কুল-কলেজ। আপাতত অষ্টম থেকে উচ্চতর শ্রেণির পঠন-পাঠন চালু হল। সম্পূর্ণ করোনা বিধি মেনেই সমস্ত সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ খুলল। বাচ্চাদের মনও আনন্দিত। স্কুল হচ্ছে একটা সেফটি ভালভ। যেখানে তারা মুক্ত হতে পারে। এই জায়গা বন্ধ হয়ে থাকলে প্রচুর ক্ষতি।
এদিন, সকাল থেকেই পড়ুয়ারা স্কুলমুখী হয়েছে। সবাই খুশি খুশি মুখ করে স্কুলের দিকে পা বাড়াল। খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অনলাইনে পড়াশোনা করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছে প্রত্যেকে। এভাবে আর কতদিন! ভারতে বিগত দুটো বছর ধরে করোনায় শিক্ষার্থীদের অবস্থা করুণ। তারা শারীরিক, মানসিক দুই দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। তারা বন্ধু বান্ধবের সঙ্গ পাচ্ছে না, একেবারে একা একা আর কাঁহাতক?
এবার বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের সরকার চাপে পড়েই স্কুল খুলেছে। এর আগে স্কুল খোলার দাবিতে সরব হন অভিভাবক থেকে শুরু করে বিরোধীরা। একাধিক ছাত্র সংগঠনের তরফেও আন্দোলন করা হয়। তাঁরা কেউ চাইছেন না এভাবে শিক্ষার্থীরা তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ুক।
অবশেষে ৩১ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পঠন-পাঠন শুরু হবে। খুলবে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ও। সেই মতোই আজ, বৃহস্পতিবার থেকে খুলল রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি আজ থেকেই পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’ চালু হচ্ছে।

