শিরোনাম
সোম. এপ্রি ৬, ২০২৬

ক্রাইস্টচার্চে একজন ‘সৌম্য’ আর একজন ‘সাকিবে’র খোঁজে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক: ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা খুব বাজে। না, খেলার মাঠের অভিজ্ঞতা নয়। সেটি ২০১৯ সালে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার কারণেই। সেই হামলার বিভীষিকা হয়তো এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ক্রিকেটারদের।

এই শহরে এর আগে বাংলাদেশ মাত্র একটি টেস্টই খেলেছে, আর তাতে ৯ উইকেটে হারলেও পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ ছিল না। কিন্তু বাজে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের হলো এ শহরে দ্বিতীয় টেস্টটি খেলতে নামার সময়।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, শুক্রবার। পরদিন টেস্ট শুরু হবে, হ্যাগলি ওভালে মাত্রই শেষ হলো দলের অনুশীলন, এর মধ্যেই ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। হ্যাগলি ওভালের অদূরেই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা গোটা দলের। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে একটু দেরি হলো, আর তাতেই বড় এক ট্র্যাজেডির হাত থেকে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা। এক উন্মাদ সেদিন বন্দুক হাতে নিয়ে মসজিদে ঢুকে গিয়ে বইয়ে দিয়েছিল রক্তের বন্যা। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ওপর গুলি চালিয়ে সেদিন হত্যা করা হয় ৫১ জন মানুষকে। মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলন সময়মতো শেষ হলেই সেদিন বন্দুকধারীর নৃশংসতার শিকার হতে পারতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও।

এমন ভয়াবহ ঘটনার পর কি আর টেস্ট ম্যাচ হতে পারে? বাতিল হয়ে যায় পরদিন থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট। বাংলাদেশ ফিরে আসে দেশে। প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশ আরও একটি টেস্ট খেলতে নামছে ক্রাইস্টচার্চে। যদিও আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মুমিনুল হকরা এই দ্বিতীয়বারের মতো ফিরছেন ক্রাইস্টচার্চে। এ বছরের শুরুতে ক্রাইস্টচার্চেই একটি ওয়ানডে খেলেছিল তামিম ইকবালের বাংলাদেশ।

ক্রাইস্টচার্চে খেলা একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯ উইকেটে। সেটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি। প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ১৭৩ রান। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড করে ৩৫৪। জয়ের জন্য ১০৯ রানের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ড খুব সহজেই পৌঁছে গিয়েছিল জিত রাভালের উইকেট হারিয়ে।

এ মাঠে এবার অবশ্য বাংলাদেশ নামছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে অসাধারণ খেলে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। এবার ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাই কিউইরা মাঠে নামবে সিরিজ বাঁচাতে। এমন প্রেক্ষাপটটা নিউজিল্যান্ডের জন্যও নতুন এক অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের জন্য তো বটেই। তবে এমন একটা টেস্টের আগে বাংলাদেশ ২০১৭ সালে ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত টেস্টটির দিকে চোখ ফেরাতেই পারে। সে টেস্টে সৌম্য সরকারের ব্যাটিং আর সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ আর কামরুল ইসলাম রাব্বির বোলিং থেকে প্রেরণা পেতেই পারে দল। ব্যাট হাতে সৌম্য ছাড়াও সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও নুরুল হাসানের ছিল বলার মতো পারফরম্যান্স। ‘বোলার’ তাসকিন, রুবেল হোসেন ও কামরুলদের ব্যাটও কিছুটা হেসেছিল সেই টেস্টে।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথমেই ফিরে যান তামিম ইকবাল। কিন্তু এরপর সৌম্য সরকার আর সাকিব আল হাসানের এক জুটিতে মুখরক্ষা হয় বাংলাদেশের। শেষের দিকে নুরুল হাসান খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সে ম্যাচেই অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ক্রাইস্টচার্চে সে টেস্টের আগে চোট সমস্যায় জর্জরিত ছিল বাংলাদেশ। মূল স্কোয়াডে না থেকেও সেই টেস্টে অভিষেক হয়েছিল নাজমুল হোসেনেরও।

সৌম্য খেলেছিলেন ৮৬ রানের ইনিংস। ১০৪ বলে ১১টি বাউন্ডারি ছিল তাঁর ইনিংসে। সাকিব করেন ৫৯, ৭৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে। নুরুলের ৪৭ রান, ৯৮ বলে ৫ বাউন্ডারিতে। নাজমুল করেছিলেন ৫৬ বলে ১৮। এ ছাড়া মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ১৯।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৫০ রানে নেন ৪ উইকেট। কামরুল ইসলাম ৭৮ রানে ২টি আর মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৯ রানে ২ উইকেট নেন। তাসকিন নেন ১ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টম ল্যাথাম ৬৮ আর হেনরি নিকোলস খেলেন ৯৮ রানের ইনিংস। এ ছাড়া রস টেলর করেছিলেন ৭৭।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং মোটেও ভালো হয়নি। সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ, ৩৬ করেছিলেন সৌম্য। এর পাশে নাজমুলের ১২ ছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি কেউই। ১৭৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে কিউইদের মাত্র ১০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেটি তারা খুব সহজেই পেরিয়ে যায় জিৎ রাভালের উইকেট হারিয়ে।

ক্রাইস্টচার্চে আরও একটি টেস্টের আগে জয়ের আত্মবিশ্বাসটাই বড় ভরসা বাংলাদেশের। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন জয় করা দুর্দান্ত জয়ের রেশ মিলিয়ে যায়নি এখনো। তবে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট যে কঠিন হবে, এতে যে সর্বশক্তি নিয়ে নিউজিল্যান্ড ঝাঁপিয়ে পড়বে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একমাত্র মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে খুঁজে পাওয়া আত্মবিশ্বাসই নিউজিল্যান্ডকে পাল্টা চোখ রাঙাতে পারে। এ টেস্টে আরও একজন সৌম্য কিংবা সাকিবকে খুঁজে পেলেই কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের গল্পটা আনন্দময় করে তুলতে পারে মুমিনুল হকের দল।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *