আওয়ামী বিচারকদের ভূয়সী প্রসংশা করলেন, বিতর্কিত ভোটে ক্ষমতা দখলে রাখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষায়-উচ্চ আদালতে রায় দিয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছে। অথচ, বাংলাদেশের বর্তমান ভোটার বিহীন নির্বাচনের পথটি পরিস্কার করেছিলেন আওয়ামী সুপ্রিমকোর্টের বিচারক খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন, এস কে সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এই চার জনের রায়ে নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। মানুষের ভোটের দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়েছে এই চার আওয়ামী বিচারকের রায়ে। এরপরই শেখ হাসিনা ভোটারবিহীন নির্বাচনের নামে ক্ষমতা দখলে রেখেছেন।
দেশে গুম, বেআইনি আটক, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশের আওয়ামী বিচারকরা নীরব দর্শকের ভুমিকায় রয়েছেন। এমনকি র্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা রীট মামলার শুনানী যাতে না হয় ২০১০ সালে একটি বেঞ্চ ভেঙ্গে দিয়েছিলেন আওয়ামী সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি। যদিও র্যাব-পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমেরিকা ইতোমধ্যেই এ সংস্থাটির ১১ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২৯ মার্চ অ্যামনেষ্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড,গুম সহ মানুষের কথা বলার অধিকার ব্যাপকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রমান করে বিচার বিভাগ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করেনি। বরং শেখ হাসিনা ক্ষমতাকে আকড়ে রাখতে সব রকমের সহায়তা করছে।
সুপ্রিমকোর্টের একটি ভবন উদ্বোধন করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে গতকাল শেখ হাসিনা বিচারকদের প্রসংশা করে বলেছেন, বিচারকদের সাহসিকতায় দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়েছে। উচ্চ আদালতই রায় দিয়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১শে মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত ১২ তলা ভবন ‘বিজয় ৭১’-এর উদ্বোধনী করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা।
এমন সময়ে বিচারকদের প্রশংসা করলেন, যখন কঠোর আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে খর্ব করা অব্যাহত রেখেছে তাঁর সরকার। এমনকি, গুম, বেআইনি আটক, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলো অভিযোগ তুলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি এ দেশে চালু করা হয়েছিল, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন সেটা পরিবর্তন করতে পেরেছি।
বিচারকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারকদের সাহসী পদক্ষেপে বিচারহীনতার কালচার থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছে।
আওয়ামী বিচারপতিদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিচারপতিদের শুধু বাসস্থানের সমস্যার সমাধান করিনি, সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি। বাসা চালানোর জন্য যা যা প্রয়োজন বাবুর্চিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। জেলা আদালতগুলোকে উন্নত করা হয়েছে। জজ সাহেবদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ এই বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনাও ঘটেছে, বোমা মেরে কোর্টে জজদের হত্যা করা হয়েছে।
এনিয়ে গত মঙ্গলবার (২৯শে মার্চ) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এমন উদ্বেগের মধ্যেই বিচারকদের ব্যাপক প্রশংসা করলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি এ দেশে চালু করা হয়েছিল, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন সেটা পরিবর্তন করতে পেরেছি।
বিচারকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারকদের সাহসী পদক্ষেপে বিচারহীনতার কালচার থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে রায় সব সময় ইংরেজিতে দেওয়া হয়। যদিও দেশে এখন স্বাক্ষরতার হার আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছি এটা ঠিক, কিন্তু রায় ইংরেজিতে সবার পক্ষে বোঝা সম্ভব না। এটা একটা বহু দিনের দাবি ছিল রায়গুলো বাংলায় যেন দেওয়া হয়। আমি আনন্দিত, ভার্চুয়ালি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলায় অনুবাদ করে ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়। যারা বিচার পায় তারা যেন সঠিকভাবে জানতে পারে রায়ে কী বলা হল। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বিচারপতিদেরকে বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমাদের বিচারপতিদের শুধু বাসস্থানের সমস্যার সমাধান করিনি, সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি। বাসা চালানোর জন্য যা যা প্রয়োজন বাবুর্চিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। জেলা আদালতগুলোকে উন্নত করা হয়েছে। জজ সাহেবদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ এই বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনাও ঘটেছে, বোমা মেরে কোর্টে জজদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে জনসাধারণ ন্যায়বিচার পাবে এবং বিচারকাজ আরও ভালোভাবে চলবে।
তিনি বলেন, আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা এসেছে। আপনারা জানেন, বাংলাদেশে মাত্র কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন তো আমরা বহুমুখী জ্ঞান সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিচ্ছি। সেই সঙ্গে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটও করেছি। একাডেমি তৈরি করে দিয়েছি। আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব। এ বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে আমাদের পরামর্শ নিতে হবে। কারিকুলাম কী হবে সেটা আপনাদের ঠিক করে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের সুবিধাগুলো আমরা দেখব। বার কাউন্সিল ভবন আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি কিন্তু আইনজীবীর সংখ্যা বেশি, তাছাড়া আমাদের বিভিন্ন জেলা পর্যায় পর্যন্ত আমরা যেমন আদালত ভবন করে দিয়েছি, আইনজীবীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বসে কাজ করতে পারে আর আমরা যারা ক্লায়েন্ট থাকি; আমাদের তো মামলা-টামলা অনেক খেতে হয় রাজনীতি করলে, আমি নিজেই প্রায় ১২-১৪টা মামলার আসামি ছিলাম। কোর্টে যেতে হয়েছে। সেখানে যাতে ন্যায় বিচারটা পায়, সবাই যদি ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে পারেন তাহলে ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ হবে। আমরা সেটা করব।
