চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার বক্তব্যের তোলপাড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন নেতৃত্ব’ প্রশ্নে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়া কিসের আপসহীন। আপস না করলে উনি জেল থেকে বের হলেন ক্যামনে। সরকারের কথা শুনেই তো বেরিয়ে এসেছেন। বেগম জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন একটি কারণে, তিনি জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী। অথচ সেই জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার তিনি করলেন না কেন?’
দলের জ্যেষ্ঠ নেতার এমন বক্তব্যের পর বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেন। শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক খণ্ডণ।
এ নিয়েই বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে শাহ মোয়াজ্জেমের ব্যক্তিগত সহকারী এইচ এম সাইফ আলী খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে একটি প্রতিবাদলিপি দেয়া হয়।
সেখানে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেল ও দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত ও তার ভিত্তিতে পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্যটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং স্বচ্ছ সাংবাদিকতার পরিপন্থিও বটে। আমার প্রকৃত বক্তব্যকে আড়াল করে খণ্ডিত বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করে দল ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই শুধু নয়, আমার সুদীর্ঘ রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস মাত্র।’
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী এবং দলের চেয়ারপারসন। আমি তাঁর মুক্তি কামনা করি এবং মুক্ত হয়ে তার পছন্দ মতো হাসপাতালে সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন, এটাই আমার কাম্য।’
ওই টেলিভিশনটির বিশেষ প্রতিবেদনে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

