শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ২১, ২০২৬

খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল হচ্ছে, প্রস্তাব গৃহীত বলে জানাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

কৌশিক সিনহা, পশ্চিমবঙ্গ: খুব দ্রুত কি নাম বদলাতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের? ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা পড়েছে। এমনটাই জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে। আজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করেন তৃণমূলের এক সাংসদ। সেই প্রশ্নের উত্তরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলা নাম করার জন্যে আবেদন জানানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে। যেখানে হিন্দি-ইংরেজি বাংলা সব ভাষাতেই ” বাংলা ” নাম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা গৃহীত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে এবার নাম বদল হতে চলেছে? মন্ত্রকের এহেন বার্তা’র পরেই নতুন করে সেই জল্পনা তৈরি হয়েছে।

নিত্যানন্দ রাই বলেন, গত পাঁচ বছরে যে সমস্ত প্রস্তাব নাম বদল নিয়ে এসেছে তাতে নো অবজেকশন অর্থাৎ ছাড়পত্র দিয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী এলাকার নাম বদলানোর নির্দেশিকাতেও তাঁরা কোনও বদল আনেনি বলে এদিন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। তবে বাংলা নাম নিয়ে যে আবেদন রাজ্যের তরফে করা হয়েছে তা গৃহীত হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে নাম বদল নিয়ে বিষয়টি ঝুলেই রইল বলে মনে করছেন একাংশ! একাধিক শহরের নাম বদল হয়েছে! এখনও পর্যন্ত নাম বদল নিয়ে কতগুলি আবেদন কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েছে বিষয়ে জানতে চান সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাইদা আহমেদ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম বদল নিয়ে আবেদনের বিষয়টিও উঠে আসে। আর সেই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিষয়ে লিখিত ভাবে তথ্য দিয়ে জানান লিখিতভাবে প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। স্পষ্ট জানানো হয়, যে প্রস্তাব জমা পড়েছিল সবেতেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল হওয়ার কারণে অনেকক্ষেত্রেই পিছনে পড়ে যেতে হয়। আর এরপরেই নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে এই বিষয়ে তৎপরতা শুরু হয়। একাধিক বিশ্লেষক-লেখক সহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এই বিষয়ে পরামর্শ নেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেই মতো প্রথমে তিনটি ভাষায় তিনটি আলাদা নাম বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয় কেন্দ্রকে। সেই মতো বাংলাতে বলা হয় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে বলা হয় ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। সব ভাষাতেই একটি নাম করার কথা বলা হয়। এরপরেই শুধুমাত্র ‘বাংলা’ নাম করার কথা জানিয়ে ফের কেন্দ্রকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। আর এরপর থেকে তা ঝুলেই রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *