শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১৮, ২০২৬

গত সাত বছরে বাংলাদেশে ৪ হাজার ১১৫ নৌ দুর্ঘটনা: নিহত ৩ হাজার ৪৯৬ জন

বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক: নদীর আয়তন কমেছে। কমেছে নৌপথও। বিপরীতে বেড়েছে নৌ দুর্ঘটনা। কখনো বড় নৌযানের ধাক্কায় ডুবেছে ছোট নৌযান, কখনো আবার চলন্ত নৌযানে ঘটেছে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনাও। সরকারি সংস্থা ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে গত সাত বছরে ৪ হাজার ১১৫টি নৌ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৬ জন। নৌযান চলাচলের দুর্বল ব্যবস্থার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের প্রধান নদীগুলো তার যৌবন হারাচ্ছে, শাখা নদী, উপনদীগুলো মরে বিলীন হয়েছে। সরকারি তথ্যেই নদ-নদীর সংখ্যা ৭০০ থেকে ৪০৫-এ নেমেছে। বেসরকারি তথ্যে এ সংখ্যা আরো কম, ২৩০টি। স্বাধীনতাকালে নৌপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার, এখন নেমেছে ছয় হাজার কিলোমিটারে। শীতকালে নৌপথ আরো কমে নামে ৩ হাজার ৮২৪ কিলোমিটার। দেশে লঞ্চ, স্টিমার, কার্গো, ট্রলার, ফেরি নৌকা ও বার্জের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়।

যেকোনো দুর্ঘটনায় সবার আগে সাড়া দেয় ফায়ার সার্ভিস। তাদের হিসাব বলছে, ২০২১ সালে নৌযান দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০৮টি। আর নদীপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮৮৭টি এবং নৌযানে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে ১২৭টি। সব মিলিয়ে গত বছর ১ হাজার ২২২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৪৪ জন। ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর মধ্যে ১৯২টি নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০৯ জন।

এছাড়া ২০১৯ সালে ৮২০টি নৌ দুর্ঘটনায় ৬৮৫ জন, ২০১৮ সালে ৫০৮টি দুর্ঘটনায় ৪২৬, ২০১৭ সালে ৫৩০টি দুর্ঘটনায় ৬৪৩, ২০১৬ সালে ৪২৫টি দুর্ঘটনায় ৪১০ ও ২০১৫ সালে ৪১৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৯ জন মারা গিয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে, নৌপথে সাধারণত তিন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলাচলের পথে একটি নৌযানের সঙ্গে আরেকটি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সময় নৌযানডুবির ঘটনা এবং চলন্ত নৌযানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নৌযান চলাচলের অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

গত বছরের ২৯ জুন সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চকে এমভি ময়ূর-২ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি আড়াআড়ি হয়ে যায়। এরপর লঞ্চটির ওপর ময়ূর-২ উঠে যায়। এতে মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রী ডুবে মারা যান। লঞ্চডুবির ওই উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফায়ার সার্ভিসের তত্কালীন উপপরিচালক (ঢাকা) দেবাশীষ বর্ধন। তিনি বলেন, নৌযান দুর্ঘটনাগুলো অধিকাংশই ঘটে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে। বিশেষ করে কোন ধরনের নৌযান কোন নদীতে চলবে সে বিষয়টি সঠিকভাবে নজরদারি করা হয় না। আবার কোন ধরনের চালক কোন শ্রেণীর নৌযান চালাবেন, সেটিও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। ফলে প্রতিনিয়তই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *