গুয়াহাটি : গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে এ যাবত্কালে সর্ববৃহত্ সংখ্যায় মৃত্যু হয়েছে অসমে। বুধবার রাত পর্যন্ত কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ১৮ জন। গতকাল রাত পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৯৬। এরই মধ্যে আজ কোকরাঝাড়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হিসাবে রাজ্যের করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯৮। তবে স্টেট ডেথ অডিট বোর্ড এখনও এই দুই নিহতের তথ্য দেয়নি।
গতকাল রাতে গোটা রাজ্যে নতুন ২,২৪৩ জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে বলে টুইট করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। একই টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন টেস্টের তুলনায় পজিটিভের হার ৭.১০ শতাংশ। মঙ্গলবার এই হার ছিল ৭.৪৮ শতাংশ। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১,৫৬২টি টেস্টে এই সকল ব্যক্তিকে কোভিড পজিটিভ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। পজিটিভদের মধ্যে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন কামরূপ মহানগর জেলার ৬৪১ জন, ডিব্ৰুগড় জেলার ১৭০, যোরহাটের ১৪০ এবং লখিমপুরের ১০৬ জন। নতুন পজিটিভদের নিয়ে অসমে এখন পর্যন্ত মোট ১,৩৩,০৬৬ জন কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জন বহিঃরাজ্যে রয়েছেন, জানান মন্ত্রী ড. শর্মা।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২,২৬৫ জন কোভিড রোগীকে সুস্থ বলে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়ে রাজ্যে আরোগ্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৩,৫০৪-। তবে এখনও সক্রিয় ২৯,১৬৩ জন রোগীর চিকিত্সা চলছে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে।
এদিকে বুধবার রাত পর্যন্ত ১৮ জন কোভিড রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাদের নিয়ে অসমে নিহতের সংখ্যা ছিল মোট ৩৯৬ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন ডিব্রুগড় জেলার, তিনজন করে তিনসুকিয়া ও ধুবড়ি এবং দুজন করে কামরূপ মেট্রো ও নলবাড়ি জেলা এবং বাকি চারজন চড়াইদেও, বঙ্গাইগাঁও, শিবসাগর এবং শোণিতপুর জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোক ব্যক্ত করে নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ কোকরাঝাড় জেলায় যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের চেচাপানি মাগুরমারির রাজুকুমার বসুমতারি (৪৩) এবং তিনটিলা শালকোচার আবদুল জলিল (৩৫) বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। এই দুজনকে নিয়ে কোকরাঝাড় জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ১৮ জন। জানা গেছে, রাজুকুমার বসুমতারির শরীরে গতকালই কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছিল। এর পর তাঁকে গৃহ একান্তবাসে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া আরেক নিহত জলিল ছিলেন বেশ্বরগাঁওয়ে কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এসকেডি / অরবিন্দ

